বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

ক্ষুধা, মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যেই গাজা দখলের ঘোষণা নেতানিয়াহুর

গাজা-ইজরাইল যুদ্ধ

গাজা ক্ষুধা
ছবি: সংগৃহীত (এএফপি)

গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেবে ইসরায়েল, তবে পরবর্তীতে কর্তৃত্ব হস্তান্তর করা হবে তৃতীয় পক্ষকে। গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষুধায় আরও ৪ জনের মৃত্যু—মোট মৃত ১৯৭।

আলজাজিরা লাইভ আপডেট সূত্রে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ “গাজার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” গ্রহণ করবে। সামরিক বিজয়ের পর এই নিয়ন্ত্রণ কোনো তৃতীয় পক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৪ জন ব্যক্তি ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলমান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ক্ষুধাজনিত মোট মৃত্যু দাঁড়াল ১৯৭ জনে, যার মধ্যে ৯৬ জন শিশু।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পুরো গাজা ভূখণ্ডেই ভয়াবহ মানবিক সংকট চলছে। একদিকে বোমা বর্ষণ আর অন্যদিকে খাবার ও চিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে নিরপরাধ মানুষ।

গাজায় প্রবেশ করা ত্রাণ সহায়তার পরিমাণও খুব সীমিত, যা মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণেও ব্যর্থ। ৫ আগস্ট আলজাজিরার আরেকটি প্রতিবেদন জানায়, চলতি সংঘাতের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক ত্রাণ ট্রাক গাজায় ঢুকতে পেরেছে, যা একটি জাতিগত মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দেয়।

বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও বেদনার শহর

৬ আগস্ট প্রকাশিত আলজাজিরার একটি ফিচারে তুলে ধরা হয়েছে, গাজার ভেতরকার মানুষের আবেগ, প্রেম, বন্ধুত্ব এবং প্রতিদিনকার ক্ষয় ও বিচ্ছেদের কাহিনি। সেখানে এক তরুণের গল্প এসেছে, যার প্রেমিকার পরিবার পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এক বিমান হামলায়। তারচেয়েও বেশি কষ্টকর, ক্ষুধার্ত শিশুর চোখের জল আর মায়ের অসহায় চিৎকার।

সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না

গাজায় সাংবাদিকরাও ইসরায়েলি আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। আলজাজিরার 'দ্য টেক' পডকাস্টে বলা হয়েছে, বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, কেউ কেউ নিরুদ্দেশ, কেউ আবার অনাহারে ভুগছেন। সংবাদ পরিবেশনের চেষ্টাকেই যেন অপরাধে পরিণত করা হয়েছে।

‘ক্ষুধা’ কী?

৪ আগস্টের এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ও গবেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ক্ষুধা শুধু পেটের যন্ত্রণা নয়—এটা মানুষের শরীরকে ধীরে ধীরে অকার্যকর করে তোলে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধ্বংসপ্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। গাজার চিত্র সেটির নির্মম প্রমাণ।