রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারীদের খেলাধুলা ও পোশাক নিয়ে সাদিক কায়েমকে সতর্ক করলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে জয়ী সাদিক কায়েমকে নিয়ে ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন।

ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী একসময় ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন। ফলাফলের জন্য সারারাত সজাগ থেকে তিনি এটিকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলেন। তিনি বলেছেন, “অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলাম ডাকসুতে সাদিক কায়িম জয়ী হওয়ার পরে। সারারাত সজাগ থেকে ফলাফলের দিকে চেয়েছিলাম। চাইলে যে কেউ আমার আইডিতে ঘুরে ঐ সময়ের পোস্টগুলো দেখতে পারেন। কারণ একটাই—এ বিজয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় মনে করেছিলাম, নিজেদের বিজয় মনে করেছিলাম।” মাদানী আরও উল্লেখ করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার এবং জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছে। তার মতে, সেখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বিশাল ভয়, আর সে কারণেই তিনি খুশি হয়েছিলেন। সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদের সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভেনগাড়ি, আলাদা বাস, গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা ইত্যাদি প্রশংসনীয় কাজ করার কথা মাদানী স্বীকার করেছেন। তবে, তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে মুসলিমরা কি শুধুমাত্র এসব কাজের জন্য কাউকে সমর্থন করতে পারে, নাকি আল্লাহর বিধান দুনিয়ার সকল সুযোগ-সুবিধার চেয়ে বড়। মাদানী বিশেষভাবে নারীদের শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে খেলার আয়োজন করে সেটিকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা এবং আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিষয়টা শুধুমাত্র খেলার নয়, বিষয়টা হলো শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটাকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা। আরমান নামে একজন আয়োজকের জন্য হাত তালি দিতে বলা! সমস্যাটা ঠিক এই জায়গায়।” মাদানী বলেছেন যে অনেক মেয়েরা সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করে। তারা যখন দেখে যে তিনি শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ অনেক হুজুরের সঙ্গে দেখা করেন এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেমরা তাকে সমর্থন করেন, তখন তারা স্বাভাবিকভাবেই মনে করে যে তার কাজগুলি সঠিক। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার মহিলারা যখন টকশোতে বলে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই, তখন সরলমনা মেয়েরা ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা পেতে পারে। তাই মাদানী উল্লেখিত শায়েখদের এই বিষয়ে সুস্পষ্ট কথা বলতে অনুরোধ করেছেন। তিনি মনে করেন, যেসব মেয়েরা সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করে, তাদের কাছে হুজুরদের আওয়াজ পৌঁছায় না, তাই এই বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা তুলে ধরা উচিত যাতে সাদিক কায়েমসহ সকলেই সতর্ক হতে পারে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রফিকুল ইসলাম মাদানী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে উন্নয়নের পাশাপাশি আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করা হয়, তবে সেই ক্ষমতা ইসলামের পক্ষের হবে না এবং তার বিরুদ্ধে তাদের স্পষ্ট অবস্থান থাকবে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার পোস্টে প্রায় আড়াই হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে।