ধানখেতে পোকা দমনের পরিবেশবান্ধব ও কম খরচের একটি পদ্ধতি আলোক ফাঁদ। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আমন ধানের পোকা পর্যবেক্ষণে এ পদ্ধতি কাজে লাগাচ্ছে কৃষি বিভাগ। কিন্তু কীটনাশক ছাড়া পোকা দমনের পরামর্শে অনেক কৃষকেরই ভরসা হচ্ছে না।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভৈরব পৌরসভা ব্লকের দড়িচণ্ডীবেরা এলাকায় বসানো একটি আলোক ফাঁদ দেখতে জড়ো হয়েছিলেন অন্তত ২০ জন কৃষক, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন নারীও ছিলেন। ৬৫ শতাংশ জমিতে আমন ধান চাষ করা কৃষক মুরাদ মিয়া ফাঁদ ঘিরে দাঁড়িয়ে পোকা দেখছিলেন। কৃষি কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়েছেন, খেতে পোকা থাকলেও আপাতত কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু এতে মুরাদ মিয়ার দুশ্চিন্তা কাটেনি।
ভৈরব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আলোক ফাঁদ নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ আছে। তাঁরা ফাঁদ দেখতে আসেন, কর্মকর্তাদের কথাও শোনেন। কিন্তু কীটনাশক না দেওয়ার পরামর্শে অনেকের ভরসা হয় না। কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো বিষ না দিলে পোকা ধান নষ্ট করে ফেলতে পারে।
ভৈরবে আমন ধানের পোকা পর্যবেক্ষণে ২২টি ব্লকে ২২০টি আলোক ফাঁদ বসানোর কর্মসূচি নিয়েছে কৃষি বিভাগ। মঙ্গলবার পর্যবেক্ষণ করা ফাঁদে দুটি মাজরা পোকা, তিনটি পাতা মোড়ানো পোকা, তিনটি সবুজ পাতা ফড়িং, ২৫টি খাটো ঘাসফড়িং ও তিনটি অপরিচিত পোকা শনাক্ত হয়। ফাঁদে কিছু উপকারী পোকাও পাওয়া যায়। তবে ধানের অন্যতম ক্ষতিকর পোকা বাদামি গাছফড়িং ওই ফাঁদে মেলেনি বলে কৃষি বিভাগ জানায়।
ফাঁদে পাওয়া পোকার ধরন ও উপস্থিতি দেখে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের আপাতত কীটনাশক ব্যবহার না করে "পার্চিং" করার পরামর্শ দিয়েছেন। পার্চিং হলো ধানখেতে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডাল পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা, যাতে পোকাখেকো পাখি ক্ষতিকর পোকা খেতে পারে।