বুধবার (৮ অক্টোবর) ভোরে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে গাজার অভিমুখে যাচ্ছিলেন আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম। আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরাইলি বাহিনী মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজটি আটক করে। জাহাজটিতে শহিদুল আলমসহ সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও অধিকারকর্মী মিলিয়ে ৯০ জনের অধিক আরোহী ছিলেন।
আটকের আগে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম বলেন, “আপনারা যদি এই ভিডিওটি দেখেন, ধরে নেবেন, আমাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং আমি ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর হাতে অপহৃত।”
এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন ও মানবাধিকার নেতারা তার মুক্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এক বিবৃতিতে বলেন, শহিদুল আলমের অবিলম্বে মুক্তি ও নিরাপত্তার জোর দাবি জানান এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সহ বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক সমাজ ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা খর্ব এবং একজন আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী ও বুদ্ধিজীবীর মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক মহলেও প্রতিবাদ চলছে।
নেটওয়ার্ক ফর জার্নালিস্ট অ্যাকশনসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও তার দ্রুত ও নিরাপদ মুক্তি দাবি করেছে।
রাজনীতিবিদসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বলেছেন, মানবিক সংহতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বার্থে বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের সোচ্চার হওয়া জরুরি।
বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে তৎপর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।