সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের বারা শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৬০০-র বেশি মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করেছেন প্রায় ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক। মাসের পর মাস খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা এসব লাশের বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষের বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্রগুলো। লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাশগুলো পড়ে ছিল বারার রাস্তা, চত্বর ও ঘরবাড়িতে, আশপাশের গ্রামে এবং রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদে যাওয়ার সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অধিকাংশ মানুষ নিহত হয়েছেন আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) প্রতিশোধমূলক হামলায়। বাকিরা সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—দুই পক্ষেরই যোদ্ধা।
গণকবর খুলে নতুন করে দাফন
এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, এলাকার ২০০টি গণকবর খুলে সেখানে স্তূপ হয়ে থাকা মরদেহ যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছে, এর বাইরে আরও ৪০০ লাশ কবর দেওয়া হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক মানুষও ছিলেন; অনেক দেহ পচে গিয়েছিল, কিছু কেবল কঙ্কাল হয়ে ছিল।
বারার প্রতিরোধ কমিটির নেতৃস্থানীয় সদস্য আবদুর রহমান বলেন, প্রকৃত সংখ্যা মাঠপর্যায়ের হিসাবের চেয়েও বেশি বলে তাঁদের ধারণা। তাঁর ভাষ্য, গেরাইগিখ, জাবরাত আল-শেখ ও উম সায়ালাসহ আশপাশের এলাকায় এখনো শত শত লাশ পড়ে আছে।
স্বেচ্ছাসেবক ও জনপ্রতিরোধ বাহিনীর সদস্য ইসমাইল কারাম আলদিন বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশের বেশির ভাগই বেসামরিক মানুষের, যাঁরা গত বছর আরএসএফ শহরে ঢোকার পর প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত হন। স্বাধীন সংগঠন ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসসহ (ইআরআর) অধিকারকর্মীরা ২০২৫ সালের অক্টোবরে বারা এলাকায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ এনেছেন আরএসএফের বিরুদ্ধে। মিডল ইস্ট আই জানায়, চলতি বছরের জুলাইয়ে তীব্র লড়াইয়ের পর সেনাবাহিনী এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়।
‘বারায় আর জীবন নেই’
স্বেচ্ছাসেবকেরা জানান, বিপুলসংখ্যক লাশের কারণে মাটি দূষিত হয়ে পড়েছে, পোকামাকড় ও বিচ্ছুর উপদ্রব বেড়েছে, দ্রুত ছড়াচ্ছে অজানা রোগ। এক স্বেচ্ছাসেবকের কথায়, ‘বারায় এখন আর কোনো জীবন নেই।’
তাঁরা বলছেন, কাজটি চলছে কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার সরাসরি সহায়তা ছাড়াই। স্থানীয় বাসিন্দা ও উপসাগরীয় দেশসহ প্রবাসীদের অর্থে এ কাজ চলছে; সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সুদানিজ রেড ক্রিসেন্ট কেবল লাশ রাখার ব্যাগ ও বাক্স দিয়েছে। জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চালাতে এখনো জ্বালানি, গ্লাভস, মাস্ক ও স্যানিটাইজার দরকার বলে জানান তাঁরা।
সুদানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, আরএসএফের সহিংসতা বারার আশপাশের ১০০টির বেশি গ্রামে ছড়িয়েছিল এবং হামলার কারণে এলাকার সব বাসিন্দাকে ঘর ছাড়তে হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গত জুলাইয়ে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কর্দোফান অঞ্চলে নতুন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২ লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে; শুধু উত্তর কর্দোফানেই আশ্রয় নিয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ।
২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আরএসএফের এই যুদ্ধে অন্তত দেড় লাখ মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে।