বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চলমান দরপত্রে তেমন সাড়া মিলছে না। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শেষ হওয়া দরপত্রে কোনো কোম্পানিই অংশ নেয়নি। একই পরিণতি এড়াতে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ আনতে তৎপর হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ইতিমধ্যে দরপত্র জমার সময় চার মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের সূত্র জানায়, গত ২৯, ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবর লন্ডনে ১০টি বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল চলমান দরপত্র ও উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) নিয়ে আলোচনা করে। বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন পিএসসি নিয়ে কোম্পানিগুলো সন্তুষ্ট; বিনিয়োগের ঝুঁকি ও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করে তারা দরপত্রে অংশ নিতে চায়। সিঙ্গাপুরেও ছয়টি কোম্পানির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবাই বিনিয়োগে বাড়তি সতর্ক।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সমুদ্রে বিভিন্ন কোম্পানির করা ছয়টি আলাদা জরিপের তথ্য আছে। ২০২৪ সালের দরপত্রে প্রতিটির দাম ধরা হয়েছিল ১০ লাখ ডলার, চলমান দরপত্রে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ডলার। এখন চারটি তথ্য বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করা হয়েছে, আর বাকি ছয়টির দাম কমিয়ে প্রতিটি ৫ হাজার ডলার ধরা হয়েছে, যাতে কোম্পানিগুলো তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় কয়েক বছর ধরে দেশে জ্বালানিসংকট বাড়ছে। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির দেড় দশক পরও সাগরে গ্যাস আবিষ্কার হয়নি। ২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করা হলেও আগস্টে তৎকালীন সরকারের পতন হয়; পরে সময় তিন মাস বাড়ানো হলেও সাতটি কোম্পানি দরপত্রের নথি কিনে জমা দেয়নি। বর্তমান সরকার গত মে মাসে সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে—১৫টি গভীর ও ১১টি অগভীর—দরপত্র আহ্বান করেছে, যার জমার সময় ছিল ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।