বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

গুরুদাসপুরে ১১টি ইটভাটার মধ্যে লাইসেন্স আছে মাত্র দুটির; জনবসতি ও কৃষিজমিতে ধোঁয়া, বিনষ্ট হচ্ছে সড়ক

নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে বেশির ভাগ ভাটা; কৃষি অফিস জানিয়েছে, গত বছর ফসলি জমি কমায় ধানের আবাদ প্রায় ১০০ টন কমেছে।

আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নাটোরের গুরুদাসপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার দৌরাত্ম্য থামছে না। পৌর সদর ও বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যত্রতত্র গড়ে উঠেছে এসব ভাটা। এতে স্থানীয় জনজীবন, কৃষিজমি, পরিবেশ ও পাকা সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিয়ম না মেনে গড়ে ওঠা ভাটাগুলোর চিমনির উচ্চতা কম হওয়ায় কালো ধোঁয়ায় চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়রা শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী ও ঘনবসতি এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন।

আইন অনুযায়ী তিন ফসলি জমি, বনভূমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ। অথচ সরেজমিনে ফসলি জমি কেটে ভাটায় মাটি সরবরাহ এবং কাঠখড়ি পোড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। ইট ও মাটি বহনকারী ভারী ট্রাক্টর-ট্রলির চাপে গ্রামীণ পাকা সড়কও নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ফসলি জমি কমে যাওয়ায় এ এলাকায় ধানের আবাদ প্রায় ১০০ টন কমেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলায় মোট ১১টি ইটভাটার মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র দুটির। পৌর এলাকায় পাঁচটি এবং সাহাপুর, হাজীর হাট ও চন্দ্রপুর এলাকায় ছয়টি ভাটা রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিচালিত এক অভিযানে উপজেলার ৯টি অবৈধ ইটভাটাকে মোট ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের ‘দায়সারা’ অভিযানের পর ভাটাগুলো আবার চালু হয়ে যায়। তাঁদের দাবি, জনস্বার্থে ভাটাগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।