মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

সাজেক সড়কে টানা পাঁচ দিনের অবরোধ: দুই এমপির উপস্থিতিতে বৈঠকের পরও অনড় আন্দোলনকারীরা, পর্যটন খাতে ক্ষতি

সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরানোর দাবিতে সাজেক সড়কের অবরোধ বৈঠকের পরও চলছে; সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া পাঁচ দফার চারটিতে সরকারের ইতিবাচক সাড়ার কথা জানিয়েছেন।

রাঙামাটির সাজেক সড়কে অচলাবস্থা নিরসনে সোমবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও সংকট কাটেনি। সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনকারীরা অনড় থাকায় টানা পঞ্চম দিনের মতো সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের ওই এলাকা থেকে সরাতে হবে। সোমবার বিকেলে সাজেক সড়কের উজোবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠকে ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, দুই জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বৈঠকের আগে দুই সংসদ সদস্য এবং দুই জেলার প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উজোবাজার এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

বৈঠক শেষে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউসে সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানান, আন্দোলনকারীদের তোলা পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি পূরণে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বাকি দাবিটি নিয়েও আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তবে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না মেলায় সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে বাবুধন চাকমা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেন। টানা পাঁচ দিন যান চলাচল বন্ধ থাকায় ওই এলাকার পর্যটন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।