শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইইউর সাখারভ পুরস্কার পেল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মানবাধিকারের জন্য তাদের সর্বোচ্চ সম্মাননা ২০২৬ সালের সাখারভ পুরস্কার পাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও এর কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপের মধ্যেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ মানবাধিকার সম্মাননা 'সাখারভ প্রাইজ ফর ফ্রিডম অব থট' পেয়েছে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও এর কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রোবার্তা মেতসোলা এ ঘোষণা দেন। পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পার্লামেন্টের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে গঠিত কনফারেন্স অব প্রেসিডেন্টসের সিদ্ধান্তে এই পুরস্কার দেওয়া হলো।

ঘোষণায় মেতসোলা বলেন, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধার ওপরই ইউরোপীয় ইউনিয়ন দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখতে আদালতের কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার। স্ট্রাসবুর্গে পার্লামেন্টের ডিসেম্বরের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

আইসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আদালত বলেছে, এমন এক সময়ে এই সম্মাননা এল, যখন আদালত ও এর কর্মকর্তারা অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে, যার মধ্যে আদালতের বিচারিক কাজ ব্যাহত করার লক্ষ্যে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

আরব নিউজে প্রকাশিত বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। গাজায় অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আদালতের বিচারকেরা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় ট্রাম্প প্রশাসন আদালতটিকে 'ইট ইট করে' ভেঙে ফেলার অঙ্গীকার করেছে। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো অপরাধের বিচার করে আইসিসি।

এএফপি জানায়, পার্লামেন্টের মধ্য-বামপন্থী জোট এসঅ্যান্ডডি আইসিসির মনোনয়নে সমর্থন দিয়েছিল। জোটটির আইনপ্রণেতা ইয়ানিস মানিয়াতিস তখন বলেছিলেন, তাঁরা আইসিসি ও এর কর্মকর্তাদের পাশে আছেন এবং আদালতের কাজ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। চলতি মাসেই আইসিসির সাবেক বিচারক নাভি পিল্লাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন; ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তকে 'লজ্জাজনক' বলে মন্তব্য করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেছে এএফপি।

এবারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আইসিসির সঙ্গে আরও ছিলেন তানজানিয়ার কারাবন্দি বিরোধী নেতা তুন্দু লিসু এবং ইরানে বিচারের মুখে থাকা দুই যমজ বোন তারানেহ ও রোমিনা রহিমি। মেতসোলা বলেন, লিসু তানজানিয়ায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন। আর রহিমি বোনদের তিনি ইরানে নিপীড়নের শিকার সবার প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করে জানান, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় তাঁদের একজন মৃত্যুদণ্ড ও অন্যজন কয়েক দশকের কারাদণ্ডের মুখে আছেন। তাঁরাও এখন 'সাখারভ পরিবারের' অংশ বলে জানান মেতসোলা।

সোভিয়েত ভিন্নমতাবলম্বী বিজ্ঞানী আন্দ্রেই সাখারভের নামে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই পুরস্কার দেয়। মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের জন্য প্রতিবছর কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এটি দেওয়া হয়।