ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত সরকারি ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী ও উগ্র ডানপন্থী জোট বিরোধীদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। শুক্রবার ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন।
সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন। বাকি ১৯ আসন গেছে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ঝুলিতে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন; কোনো পক্ষই তা পায়নি। বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের হাতে সর্বোচ্চ ৬৮ আসন ছিল, ফলে এ ফলাফল তাঁর জন্য বড় ধাক্কা।
দলভিত্তিক হিসাবে লিকুদ ২৭ আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল। আইজেনকটের ‘য়াশার’ পেয়েছে ২১ আসন। আরব দলগুলোর মধ্যে ‘জয়েন্ট লিস্ট’ পেয়েছে ১১ এবং ‘রাম’ পেয়েছে ৮ আসন। এ নিয়ে আরব দলগুলোর মোট আসন বিদায়ী নেসেটের ১০টির প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নির্বাচনে রেকর্ড ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট যোগ্য ভোটারের ৭৭.৯ শতাংশ। ৩.২৫ শতাংশ ভোটের থ্রেশহোল্ড পূরণ করতে না পারায় কয়েকটি ছোট দল নেসেটের বাইরে থেকে গেছে।
ফল প্রকাশের আগে বৃহস্পতিবার লিকুদ এক বিবৃতিতে দাবি করে, ‘ইসরায়েলের নির্বাচন চুরি হয়েছে’। দলটির অভিযোগ, ডানপন্থী সরকারকে ফেলে দিতে বিদেশি সহায়তায় আরব দলগুলো ভোটে প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি রাজনীতিক ও গণমাধ্যমে প্রচারিত কিছু দাবিতে বলা হয়েছিল, ভোট কেনার জন্য কাতার আরব দলগুলোকে অর্থ দিয়েছে। কাতার ও সংশ্লিষ্ট দলগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। লিকুদ এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ দেয়নি।
নির্বাচন কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবের্গ বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহ তদন্তের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতের কাছে পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জানান, অভিযোগগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্ত প্রয়োজন। শিন বেত জানিয়েছে, এ তদন্তের উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক ও আইনসম্মতভাবে ভোট দেওয়া কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি আঙুল তোলা নয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তদন্ত চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলবে না এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করেও নয়। কমিশন এক সপ্তাহের মধ্যে শিন বেতের তদন্ত-ফল চেয়েছে। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ পরিস্থিতিকে দেশের জন্য স্পর্শকাতর মুহূর্ত বলে বর্ণনা করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং একটি পুরো সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত না করার সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আইজেনকট অভিযোগ করেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় নেতানিয়াহুর শিবির নির্বাচনী ফলের বৈধতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফলাফল আগামী বুধবার প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়ার কথা। এরপর হারজোগ প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার গঠনের আহ্বান কাকে জানানো উচিত, সে বিষয়ে তাঁদের সুপারিশ শুনবেন। নেতানিয়াহু আপাতত দায়িত্বে আছেন।
ইসরায়েলের আরব নাগরিকেরা জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ, যাঁদের বেশির ভাগ ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত। নেতানিয়াহুর জোট জয়েন্ট লিস্টকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে, জয়েন্ট লিস্টও তাঁর সঙ্গে যাবে না বলে জানিয়েছে। আইজেনকট তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান দেখালেও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে যেকোনো সমঝোতা কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই অচলাবস্থা নেতানিয়াহুর পক্ষেই যেতে পারে, কারণ দীর্ঘ জোট-আলোচনা বা নতুন নির্বাচন পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যেতে পারেন।