গাজায় যুদ্ধবিরতি চলাকালেই ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু এলাকায় হামলায় সাত বছর বয়সী একটি শিশুসহ অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসা সূত্র ও প্রাথমিক উদ্ধারকর্মীরা।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি গুলি ও বিমান হামলায় সব মিলিয়ে ১১ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে হামলার পর তিনটি মরদেহ নেওয়া হয়েছে, যার একটি শিশুর।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল তিনজনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে। হাসপাতাল নিহতদের নাম জানিয়েছে হোসাম আল-জামলি, তামের আবু সনিমা এবং জৌরি আল-সৌফি। গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জৌরির বয়স সাত বছর বলে জানিয়েছে। হাসপাতালের ভাষ্য, ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ও স্প্লিন্টারে তাঁদের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আহতদের মধ্যে একটি শিশু ও একজন নারীও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্য একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চার; খান ইউনিসের পশ্চিমে বির-১৯ এলাকায় তাঁবুতে অবস্থানরত শিশুটিকে ইসরায়েলপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীর গুলিতে নিহত হতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছে।
গাজার এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সকালে দেইর আল-বালাহর পূর্ব অংশে ‘ইয়েলো লাইনের’ পশ্চিমে ইসরায়েলি ট্যাংক ও সামরিক যান একটি বুলডোজারসহ এগিয়েছে। একই সময়ে এলাকাটির পূর্ব ও উত্তর অংশে ভারী গুলিবর্ষণ হয়েছে। সেখানে কয়েকশ বাস্তুচ্যুত পরিবার আছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ‘ইয়েলো লাইন’ নামে একটি রেখা টানা হয়, যা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ও হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাকে আলাদা করে। ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আছে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি অংশ।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে অন্তত ১ হাজার ৫৫১ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫ হাজার ৫৭৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় মোট নিহতের সংখ্যা ৭৪ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।