শনিবার অনুষ্ঠিত এলডিপির নেতৃত্ব নির্বাচনে সানায়ে তাকাইচি রান-অফ ভোটে জয়ী হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির ছেলে শিনজিরো কোইজুমিকে পরাজিত করে।
প্রথম দফার ভোটে পাঁচ প্রার্থীর কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় রান-অফ ভোটের আয়োজন করা হয়।
আগামী ১৫ অক্টোবর জাপানের পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এলডিপি পার্লামেন্টে এখনও সবচেয়ে বড় দল হওয়ায় তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
৬৪ বছর বয়সী তাকাইচি এলডিপির ডানপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি আগে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে-র ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এলডিপির এই নেতৃত্ব নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন দলের ২৯৫ জন সংসদ সদস্য এবং প্রায় ১০ লাখ নিবন্ধিত সদস্য। এটি জাপানের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে, ফলে সাধারণ জনগণের মতামতের প্রতিফলন এতে নেই বলে অনেক পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন।
নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর এলডিপি-নেতৃত্বাধীন জোট আর সংসদের দুই কক্ষে পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারেনি। ফলে তাকাইচিকে সরকার পরিচালনায় বিরোধী দলগুলোর সহায়তা নিতে হতে পারে।
দলটি ইতিমধ্যে মধ্যপন্থী কোমেইতো দলের সঙ্গে জোট সম্প্রসারণ এবং অন্তত একটি বিরোধী দলকে সঙ্গে নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করছে।
নির্বাচনের পর তাকাইচি বলেন, “আমাদের দলকে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে। এলডিপি নতুন করে শুরু করার জন্য সংস্কারের প্রয়োজন।”
অন্যদিকে, কোইজুমি প্রচারণার সময় বলেছিলেন, “দল এখন সংকটে আছে; আস্থা পুনর্গঠনের মধ্য দিয়েই আমাদের টিকে থাকতে হবে।”
তাকাইচি ও কোইজুমি উভয়েই সম্প্রতি উত্থিত জাতীয়তাবাদী দল সানসেইতো-র সমর্থকদের আকৃষ্ট করতে অভিবাসনবিরোধী অবস্থান নেন। তাকাইচি বলেন, “পুরোপুরি ভিন্ন সংস্কৃতি ও পটভূমি থেকে আসা লোকদের জন্য উন্মুক্ত নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
কোইজুমি যুক্ত করেন, “বিদেশিদের অবৈধ কর্মসংস্থান ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি স্থানীয়দের উদ্বিগ্ন করছে।”
তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জাপানে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার মাত্র তিন শতাংশ — তাই এমন মন্তব্য দেশটিতে বেশ অস্বাভাবিক।
অর্থনৈতিক দিক থেকে তাকাইচি অতীতে বৃহৎ সরকারি ব্যয় ও শিথিল মুদ্রানীতি সমর্থন করেছেন, যা আবে-র নীতির প্রতিফলন। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কিছুটা সংযত মনোভাব দেখিয়েছেন এবং চীনের বিষয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহগুলোতে তাকাইচিকে কূটনৈতিকভাবে একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে — অক্টোবরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য এক শীর্ষ বৈঠকে তিনি অংশ নিতে পারেন। ট্রাম্প সেখানে জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর দাবি তুলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়া জাপানের রাজনীতিতে ঐতিহাসিক ঘটনা হতে পারে। তবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির রক্ষণশীল শাখা থেকে উঠে আসায় তিনি নারী অধিকার বা লিঙ্গসমতার বিষয়ে তেমন আগ্রহী নন বলে বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য।
টোকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও লিঙ্গবিষয়ক অধ্যাপক ইউকি সুজি বলেন, “তাকাইচির নেতৃত্বে নারী অধিকারের ক্ষেত্রে বড় কোনো অগ্রগতি হবে বলে মনে হয় না।”
জাপানে তাকাইচির নেতৃত্বে একদিকে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দল ও সরকারের সামনে অর্থনীতি, জনসংখ্যা সংকট ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।