সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বড় জয়ের পথে ইলিয়ানা ইয়োতোভা, প্রায় সব কেন্দ্রের গণনায় ৫৭.৫৮ শতাংশ ভোট; হতে যাচ্ছেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট

রোববারের দ্বিতীয় দফার ভোটে ৯৯.৯৫ শতাংশ কেন্দ্রের গণনায় ইয়োতোভা ৫৭.৫৮ শতাংশ ও প্রতিদ্বন্দ্বী আন্দ্রেই গিউরভ ৩৯.৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছেন; ফল মেনে নিয়েছেন গিউরভ, তবে চূড়ান্ত সরকারি ফল এখনো ঘোষণা হয়নি।

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় বড় ব্যবধানে জয়ের পথে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভা। রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ভোটে জয় নিশ্চিত হলে তিনি হবেন দেশটির প্রথম নির্বাচিত নারী প্রেসিডেন্ট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই গিউরভ এরই মধ্যে ফল মেনে নিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এখনো চূড়ান্ত সরকারি ফল ঘোষণা করেনি, তাই এই ফল এখনো প্রাথমিক।

গণনায় যা দেখা যাচ্ছে

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে দৈনিক ইনকিলাব জানায়, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের হিসাবে ৯৯.৯৫ শতাংশ ভোটকেন্দ্রের গণনা শেষে ইয়োতোভা ও তাঁর রানিং মেট কিরিল ভালচেভ পেয়েছেন ৫৭.৫৮ শতাংশ ভোট, সংখ্যায় যা প্রায় ১০ লাখ ৯৪ হাজার। গিউরভ ও তাঁর রানিং মেট জর্জি কানদেভ পেয়েছেন ৩৯.৪৬ শতাংশ ভোট। প্রায় ২.৯৫ শতাংশ ভোটার কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন দেননি।

ভোট শেষ হওয়ার পরপর প্রকাশিত বুথফেরত জরিপেও একই চিত্র মিলেছিল। টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, শীর্ষ পাঁচটি জরিপ সংস্থার সমান্তরাল গণনায় ইয়োতোভার ভোট ৫৬.৬ থেকে ৫৮.২ শতাংশ এবং গিউরভের ৩৮.৬ থেকে ৪০.৬ শতাংশের মধ্যে দেখানো হয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, শতভাগ কেন্দ্রের ভিত্তিতে জরিপ সংস্থা ট্রেন্ডের সমান্তরাল গণনায় ইয়োতোভা ৫৮.১ শতাংশ ও গিউরভ ৩৮.৯ শতাংশ ভোট পান।

গত ২৫ অক্টোবরের প্রথম দফায় ইয়োতোভা ৩৪.৭৬ শতাংশ এবং গিউরভ ৩১.৯৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন; কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফার ভোট হয়। আনাদোলুর তথ্যমতে, প্রথম দফায় ভোটার উপস্থিতি ছিল ২২.৯৮ শতাংশ, যা কমিউনিস্ট শাসন-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে সর্বনিম্ন। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র স্তোয়াঙ্কা বালোভা জানান, দ্বিতীয় দফায় বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপস্থিতি ছিল ১৯.৩৩ শতাংশ, প্রথম দফায় একই সময়ে যা ছিল ১৬.০৪ শতাংশ।

ফল মেনে নিলেন গিউরভ

টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, রাজধানী সোফিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে গিউরভ বলেন, ফল যতই বিস্ময়কর হোক, তিনি তা মেনে নিচ্ছেন। ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, নাগরিকেরা রায় দিয়েছেন এবং সেই রায় মেনে নিতে হবে। বুলগেরিয়ার জাতীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর গিউরভ প্রচারে সতর্ক করেছিলেন, ইয়োতোভা জিতলে রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য থাকবে না, কারণ সরকার আগে থেকেই প্রোগ্রেসিভ বুলগেরিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ইউক্রেনে সহায়তা কমানোর সমালোচনা করে তিনি বলেছিলেন, এতে ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তে বুলগেরিয়া দুর্বল জায়গা হয়ে উঠেছে।

কে এই ইয়োতোভা

৬২ বছর বয়সী ইয়োতোভা একসময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্যমতে, তিনি বুলগেরিয়ান সোশ্যালিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের রাজনীতিক। পরে রুমেন রাদেভের দুই মেয়াদে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে নামতে রাদেভ গত জানুয়ারিতে পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী ইয়োতোভা ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হন। এপ্রিলের সংসদ নির্বাচনে রাদেভের দল প্রোগ্রেসিভ বুলগেরিয়া ২৪০ আসনের মধ্যে ১৩১টি পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়; দলটিই পাঁচ বছরের পূর্ণ মেয়াদের জন্য ইয়োতোভাকে সমর্থন দেয়।

ইয়োতোভা ইউক্রেনে বুলগেরিয়ার আরও সামরিক সহায়তা পাঠানোর বিরোধী। তাঁর মতে, এই যুদ্ধের সামরিক সমাধান নেই; তিনি কূটনীতিনির্ভর ‘শান্তির জোট’ গড়ার কথা বলেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, তিনি ‘শান্তির প্রেসিডেন্টের’ পক্ষে ভোট দিয়েছেন। ইনকিলাবে প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, সংসদে পাস হওয়া বিলে ভেটো দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেন।