শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের পর হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হলেন স্টিফেন মিলার, বিদায় নিচ্ছেন সুজি ওয়াইলস

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ৯ নভেম্বর সোমবার থেকে অভিবাসননীতির অন্যতম কঠোর প্রবক্তা মিলার দায়িত্ব নেবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। রিপাবলিকান পার্টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় এই রদবদল এল।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, বর্তমানে ডেপুটি চিফ অব স্টাফের দায়িত্বে থাকা মিলার তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ এবং ৯ নভেম্বর, সোমবার থেকে তিনি চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব নেবেন। বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসকে ‘অসাধারণ কাজের’ জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি এখন ট্রাম্পের রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হবেন।

পরে এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে ওয়াইলস জানান, শুক্রবার ছিল চিফ অব স্টাফ হিসেবে তাঁর শেষ দিন। তিনি লেখেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে কাজ করা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয়। ওয়াইলস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী চিফ অব স্টাফ। সম্প্রতি তিনি স্তন ক্যানসার থেকে মুক্তির কথা জানিয়েছিলেন। ওয়াইলসকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে—এমন খবর সম্প্রতি হোয়াইট হাউস জোরালোভাবে অস্বীকার করেছিল।

৪১ বছর বয়সী মিলার এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি স্বদেশ নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন এবং ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গণ-বহিষ্কার কর্মসূচি চালানোর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। এই কর্মসূচিতে মুখোশধারী এজেন্টদের সহিংস অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। জানুয়ারিতে মিনিয়াপলিসে অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর তিনি বিশেষ সমালোচনার মুখে পড়েন; ওই ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।

এ বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা ট্রাম্প তুললে মিলার যুক্তি দিয়েছিলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং বিদেশি ভূখণ্ড অধিগ্রহণ করতে পারে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক টিম এক্সে মিলারের একটি সাদা-কালো ছবি দিয়ে লিখেছে, ‘ইট’স মিলার টাইম’।

নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট দুটিরই নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ৮০ বছর বয়সী উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে চার জন চিফ অব স্টাফ ছিলেন; রেইন্স প্রিবাস ছয় মাস এবং জন কেলি ১৭ মাস দায়িত্ব পালন করেন।