শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারি চাকরির ভেরিফিকেশনে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াতে ইসলামী

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে যে সরকারি চাকরির নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলের পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। দলটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থীর নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের কোন আইন বা মানদণ্ডে বাদ দেওয়া হয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার তার বিবৃতিতে বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বাদ পড়েছেন, তা জানার অধিকার জাতির রয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে বাংলাদেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল জানান, ২৭ জেলায় অন্তত ৭৭৮ জন চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রার্থী দাবি করেছেন, ভেরিফিকেশনের নামে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর এবং রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য অশনিসংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মিয়া পরওয়ার বলেন, অনেকের গুরুতর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও বহু প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দেশবাসী মনে করে, সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে নিয়োগপত্র না পাওয়া চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুন। প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট কারণ জানান এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করুন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়লে অবিলম্বে তার প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।