শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

নওগাঁর মান্দায় নয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটিতেও এমবিবিএস চিকিৎসক নেই, ৪৫ পদের ৩০টিই শূন্য

জরাজীর্ণ ভবন, জনবল ও ওষুধসংকটে মান্দা উপজেলার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় গ্রামীণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না; নতুন ভবন ও নিয়োগের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চিকিৎসক ও জনবলসংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং ওষুধের অভাবে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর সেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। উপজেলার নয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটিতেও এমবিবিএস চিকিৎসক নেই। অনুমোদিত ৪৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৫ জন। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে এসেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না গ্রামের মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নয়টি কেন্দ্রের মধ্যে খাসমান্দা, কালিকাপুর, জোতবাজার ও কালিগ্রাম কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন আছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনগুলো জরাজীর্ণ। টিনের ছাউনি ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি চিকিৎসাকক্ষে ঢোকে, ফলে ওষুধ ও সরঞ্জাম রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। বাকি পাঁচটি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন নেই; সেগুলো অস্থায়ীভাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভবনে চলছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কেন্দ্রে একজন চিকিৎসক, একজন চিকিৎসা সহকারী, একজন ওষুধ বিতরণকারী, একজন ধাত্রী ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা। বাস্তবে নয়টি কেন্দ্রের ৪৫টি পদের ৩০টিই শূন্য। জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।

জোতবাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সহকারী ময়নুল হাসান জানান, প্রতিদিন শতাধিক রোগী আসেন, অথচ দায়িত্বে আছেন মাত্র দুজন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় কেন্দ্র পরিষ্কার থেকে শুরু করে রোগীর তথ্য নিবন্ধন ও ওষুধ বিতরণ পর্যন্ত সবই তাঁকে করতে হয়। খাসমান্দা কেন্দ্রের ওষুধ বিতরণকারী মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতিদিন ৮০ জনের বেশি রোগী আসেন, কিন্তু সরবরাহ করা ওষুধ মাসের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। বাকি দিনগুলোয় রোগীদের চাহিদা মেটানো যায় না।

কোমরব্যথা, জ্বর ও কাশি নিয়ে খাসমান্দা কেন্দ্রে আসা ষাটোর্ধ্ব ময়না বেগম জানান, তাঁকে প্যারাসিটামল, হিস্টাসিন ও ওমিপ্রাজল দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা না পেয়ে তিনি হতাশ। স্থানীয় বাসিন্দা সুফল কুমার বলেন, দরিদ্র মানুষের ভরসা এই কেন্দ্রগুলো, অথচ চিকিৎসক, ওষুধ ও অবকাঠামোর অভাবে তাঁরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও শূন্য পদে নিয়োগের দাবি জানান।

মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুব-উল আলম বলেন, জনবল ও ওষুধসংকটের কারণে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে, তবে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কেন্দ্রগুলো চালু রাখা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে; অনুমোদন মিললে নির্মাণকাজ শুরু হবে। চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হলে সংকট অনেকটাই কাটবে বলে তিনি মনে করেন।