বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যা: কবর জিয়ারতে প্রতিমন্ত্রী পুতুল, এমপিপুত্র রিমান্ডে

পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, হত্যার বিচার হতেই হবে; মামলাটি ডিবিতে গেছে, প্রধান সন্দেহভাজন তিন দিনের রিমান্ডে।

নাটোরের গুরুদাসপুরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি কবরস্থানে যান। পরে শাকিলের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।

প্রতিমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ‘শাকিল হত্যার বিচার হতেই হবে এই বাংলার মাটিতে। কাউকে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। অপরাধী যে-ই হোক, তার সাজা হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, হত্যার ঘটনায় কোনো ভাঙচুর করা যাবে না এবং ঘটনা যেন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয়, সে চেষ্টা থাকবে। এ সময় নাটোর জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার পটভূমি: গত ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে চাঁচকৈড় বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে শাকিলের ওপর হেলমেট পরা একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাত আটটার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলায় নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর জড়িত থাকার অভিযোগে এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মামলাটি থানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে মিন্টুকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি।

শাকিলের স্বজনদের অভিযোগ, হামলার পর ১২ দিন পার হলেও পুলিশ শুরুতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এপ্রিল মাসে জীবননাশের আশঙ্কায় করা সাধারণ ডায়েরির নথিও থানা থেকে গায়েব হয়ে গেছে বলে তাঁরা দাবি করেন। শাকিলের বাবা রবিউল বলেন, তিনি যাঁদের নাম দিয়েছিলেন তাঁদের মূল নাম বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে মামলা নেওয়া হয়েছে; এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাঁরা শঙ্কায় আছেন। বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এলাকা এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।