ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
হুতিদের দাবি
ইয়াহিয়া সারির বিবৃতি অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল থেকে রাজধানী রিয়াদ এবং দক্ষিণের নাজরান অঞ্চল পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাস তানুরা তেল শোধনাগারে এবং আবকাইক এলাকায় সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ড্রোনে দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে রাবিগ তেল শোধনাগারে হামলার কথা বলেছে গোষ্ঠীটি। নাজরান অঞ্চলে সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি সদর দপ্তরেও হামলার দাবি করেছে তারা।
জোটের বক্তব্য
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি জানান, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র জানান, ধ্বংসাবশেষের আঘাতে রিয়াদে একজন সৌদি নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একটি বাড়ি ও একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের খবরের আগে রিয়াদ ও আল-খারজ প্রদেশ এবং নাজরান শহরে সম্ভাব্য হামলার সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল।
শুক্রবার জোট আরও জানিয়েছে, মক্কা অঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন ঠেকিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও শহরে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে; ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ যাত্রী নিহত ও তিন শতাধিক আহত হয়েছিলেন বলে সৌদি সূত্রের বরাতে জানানো হয়।
সংলাপের মধ্যেই হামলা
চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানে সৌদি আরব ও ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়, যেখানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দুই পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে হুতি ও সৌদি আরবের সংঘাত মেটাতে একমত হয়েছিল। আলোচনার পর ইতিবাচক বক্তব্য এলেও হুতি ও সৌদি আরব একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।