নওগাঁর মান্দা উপজেলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রচার চালানোর অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে নওগাঁ ও রাজশাহী জেলার সীমান্তবর্তী একটি খোলা মাঠ থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। পদ্মা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার দুজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাশোপাড়া ইউনিয়নের আসলাম হোসেন টিপুসহ কয়েকজন নওগাঁ-রাজশাহী সীমান্তবর্তী এলাকার একটি সড়কে “শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন” এমন প্রচারের ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে ভিডিওটি পুলিশের নজরে এলে তদন্ত ও অভিযান শুরু হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইক লাগিয়ে এক যুবক প্রচার চালাচ্ছেন। তিনি শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার দাবি করেন, দলমত নির্বিশেষে তাঁকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান এবং “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেন। এই প্রতিবেদনে ওই দাবির সত্যতা যাচাই করা যায়নি; এটি ভিডিওতে করা দাবি মাত্র।
পদ্মা টাইমস জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মান্দার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম শহীদ (৪৩) ও নবগ্রাম তালাপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার (৫০)। পুলিশ সুপারের ভাষ্য, শহিদুল ইসলাম বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। তবে অভিযুক্ত হিসেবে তাঁরা আদালতে দোষী প্রমাণিত হননি। মাইকিংয়ে ব্যবহৃত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়েছে।
এসপি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে। নওগাঁ জেলাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার মান্দা থানার ওসি আফজাল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। ইত্তেফাক শেখ হাসিনাকে “ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।