রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলার দুটি সরকারি হাসপাতালে চলতি অক্টোবরে বেশ কয়েকজনের ডেঙ্গু ধরা পড়েছে, দুই হাসপাতাল থেকেই অবস্থার অবনতি হওয়া রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গোদাগাড়ী পৌর এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
দুই হাসপাতালের চিত্র
রাজশাহীর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পদ্মা টাইমসের বৃহস্পতিবারের (২২ অক্টোবর) প্রতিবেদনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বরাতে বলা হয়েছে, প্রেমতলীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিনে তিনজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের একজনের বয়স ৭০ বছর; অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রামেকে পাঠানো হয়। অপর দুজন কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চলতি মাসের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ২১১ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা হয়েছে, এর মধ্যে ১১ জনের ফল পজিটিভ। আক্রান্তদের পাঁচজন সেরে উঠে বাড়ি ফিরেছেন, দুজন ভর্তি আছেন এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দুজনকে রামেকে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজনের অবস্থা জানা যায়নি।
বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেখানে গড়ে প্রতি ১৫টি ডেঙ্গু পরীক্ষার পাঁচটিতেই পজিটিভ আসছে। তবে এটি সরকারি হিসাব নয়। উপজেলায় মোট কতজন আক্রান্ত, তার হালনাগাদ সরকারি সংখ্যা পাওয়া যায়নি। স্থানীয় দুই হাসপাতালের তথ্যে কোনো মৃত্যুর উল্লেখ নেই।
গোদাগাড়ী ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. সুমন জানান, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট আছে এবং গুরুতর রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদও বলেছেন, কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সরঞ্জাম রয়েছে।
বিভাগে প্রতিদিন ভর্তি শতাধিক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে ১৬২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০ ও ২১ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তিতে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১২৮ ও ১১১। অধিদপ্তরের হিসাবে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে রাজশাহী বিভাগে ডেঙ্গুতে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে চারজনের মৃত্যু হয়েছে, তবে তাঁদের কেউ রাজশাহী বিভাগের নন। এ বছর দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩৬৮ জন মারা গেছেন, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে সোনালী সংবাদ জানিয়েছিল, আগস্টে বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৪৩ জন আক্রান্ত হন চাঁপাইনবাবগঞ্জে, রাজশাহী জেলায় ওই মাসে আক্রান্ত ছিলেন ২৫ জন। রোগীর চাপ বাড়ায় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে রামেকে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে সেখানে মারা যাওয়া রোগীদের মধ্যে জেলার তানোর ও বাগমারা উপজেলার বাসিন্দাও ছিলেন।
প্রশাসনের উদ্যোগ ও বাসিন্দাদের করণীয়
গত ১০ সেপ্টেম্বর গোদাগাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়, যার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান। তখন বলা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান জোরদার করা হবে।
বৃহস্পতিবার ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, বিশেষ করে পৌর এলাকায় ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হবে।
স্থানীয় চিকিৎসক ও প্রশাসনের পরামর্শ:
• জ্বর হলে অবহেলা না করে সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করান (ডা. সৈয়দ মো. সুমন)।
• ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন (ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদ)।
• বাড়ির আঙিনা, ছাদ ও ফুলের টবে পানি জমতে দেবেন না; এসব জায়গায় এডিস মশা বংশ বিস্তার করে (ইউএনও ইসরাত জাহান)।