রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

টিকটকে মন্তব্য নিয়ে বিরোধ: সালিসের পর আশুগঞ্জ বাজারে টেঁটা-বল্লম নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

দুই কিশোরের বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে; সালিস শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

ভিডিও-নির্ভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের একটি ভিডিওতে মন্তব্য করা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত আশুগঞ্জ বাজারে আবিরপাড়া ও নাকরপাড়া গোষ্ঠীর মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপুর ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের দুই গোষ্ঠীর কয়েকজন কিশোরের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল। গত বৃহস্পতিবার টিকটক ভিডিওতে মন্তব্য করা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। শুক্রবার দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আশুগঞ্জ বাজারে একটি আড়তে স্থানীয় মাতবরদের উপস্থিতিতে সালিস বসে। সেখানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও থানা-পুলিশের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বৈঠক চলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সালিসে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বৈঠক শেষে পুলিশ চলে যাওয়ার পর উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা, বল্লম, ছুরি, দা, রামদা ও লাঠিসোঁটাসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

আবিরপাড়া গোষ্ঠীর এমরান মোল্লা বলেন, টিকটকের ভিডিও নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল এবং সালিসে তা মিটে যায়; পরে দুই কিশোর একে অপরকে মারধর করে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপির একটি পক্ষ বিষয়টিকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চাইছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজের ভাষ্য, সালিসের শেষ দিকে এক গোষ্ঠীর এক কিশোর ক্ষুর দিয়ে অন্য গোষ্ঠীর এক কিশোরের শরীরে পোচ দিলে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান জানান, পুলিশ দ্রুত গিয়ে বেলা তিনটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় এখন পুলিশের টহল আছে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি বলে তিনি জানান।