বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার দিনে নেই চেনা উৎসবের আমেজ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ

কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার দিনে নেই চেনা উৎসবের আমেজ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ
ছবি: রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের দুই গ্রুপের উদ্যোগে দুটি স্টল

আজ খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ভর্তি পরীক্ষা। সাধারণত এই দিনটিকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন বিভাগের স্টল, এলাকা ভিত্তিক সংগঠনের কার্যক্রম, স্ট্রিট পেইন্টিংসহ নানা আয়োজনে নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়।
তবে এ বছর সেই চেনা আমেজ আর দেখা যায়নি। প্রশাসনের নির্দেশনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে থাকা বেশিরভাগ স্টল ও কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন বিভাগ ও এলাকা ভিত্তিক সংগঠনগুলো কোনো আয়োজন করতে পারেনি।
অন্যদিকে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের দুই গ্রুপের উদ্যোগে দুটি স্টল বসতে দেখা গেছে। যেখানে প্রতি বছর ৫০টিরও বেশি স্টল থাকে, সেখানে এবার মাত্র দুটি রাজনৈতিক স্টল থাকায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
কুয়েটে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মনে করছে—কিছু শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের ভূমিকায় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে ফিরে আসছে। তাদের অভিযোগ, সাধারণ ছাত্রদের মতামত উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলছেন, শিক্ষক সমিতির কিছু সিদ্ধান্ত ও ভূমিকার কারণে তাদের প্রতিবাদের জায়গা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্যাম্পাসে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও খুব শিগগিরই কুয়েটে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্ররাজনীতি চালু হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মতে, জোর করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চাপিয়ে দিলে তার ফল ইতিবাচক হবে না এবং এতে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে নতুন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন স্মৃতি তৈরির পরিবর্তে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—ক্যাম্পাসে কি সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য?