শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

গোদাগাড়ীর খেতুরীধামে নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব শুরু, তিন দিনের উৎসবে মেলা ও কড়া নিরাপত্তা

প্রেমতলীর খেতুরীধামে বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হয়েছে ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব; শনিবার গঙ্গাস্নান ও দীর্ঘ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে এটি শেষ হওয়ার কথা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলীর খেতুরীধামে শুরু হয়েছে সনাতন বৈষ্ণব ধর্মের সাধক ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ভজন-কীর্তন, সন্ধ্যা আরতি, দামোদর আরতি, নরোত্তম চরিতকথা ও অধিবাস কীর্তনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের সূচনা হয়।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ভোর থেকে মঙ্গল আরতি, হরিনাম সংকীর্তনসহ খেতুরীধাম পরিক্রমা, দর্শন আরতি ও শ্রীল প্রভুপাদ গুরুপূজার কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া অষ্টপ্রহর কীর্তন, প্রসাদ গ্রহণ ও নানা ধর্মীয় আচারে অংশ নিচ্ছেন ভক্তরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) গঙ্গাস্নান ও দীর্ঘ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মহোৎসব শেষ হওয়ার কথা।

উৎসব উপলক্ষে ধামের আশপাশে বসেছে মেলা। সেখানে ধর্মীয় উপকরণের পাশাপাশি খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, কারুশিল্পের পণ্য এবং কামার-কুমারের তৈরি মৃৎ ও লৌহজাত সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। দেশ-বিদেশের ভক্ত ও সাধু-সন্ন্যাসীদের আগমনে পদ্মাপাড়ের এই ধাম এখন মুখর।

খেতুরীধাম ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক শ্যামাপদ সান্যাল বলেন, শত শত বছর ধরে এই উৎসব ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি মুসলিমসহ অন্য ধর্মের মানুষও সম্প্রীতির টানে এখানে আসেন। ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনের সহযোগিতায় এবারও উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজন মিয়া জানান, ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উৎসব প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন; সতর্ক নজরদারিও রাখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান জানান, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিচ্ছে।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঠাকুর নরোত্তম দাস ষোড়শ শতকে গোদাগাড়ীর প্রেমতলী এলাকার গোপালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন তৎকালীন জমিদার কৃষ্ণনন্দ দাস মজুমদার। বিত্তশালী পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি বিলাসী জীবন ছেড়ে ধর্মসাধনা, মানবসেবা ও বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে নিজেকে নিয়োজিত করেন।