ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ‘দখলদার’ হিসেবে অবস্থান নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শুক্রবার ফ্লোরিডায় নাসার একটি স্থাপনায় ভাষণ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা করছি, তা হয়তো দখলদারত্ব। আমরা দখলদার হিসেবেও থাকতে পারি।’ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতিহাসে এই প্রণালি থেকে এখন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি তেল উত্তোলন করছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প দাবি করেন, গত অক্টোবরে রাশিয়া-ইউক্রেন লড়াইয়ে ২৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের সঙ্গে সংঘাত নবম মাসে গড়ালেও তাঁর ভাষ্য, একে ‘যুদ্ধ’ বলা যায় না, কারণ কয়েক মাসে সেখানে কেউ আহত হয়নি।
শুক্রবার ইরানের কেশম দ্বীপের কাছে মার্কিন বাহিনীর হামলার খবর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প প্রথমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি সীমিত সামরিক অভিযানের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা ছোটখাটো হামলা চালাই।’ তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনীর তৈরি একটি ছোট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মার্কিন বাহিনী পাঁচ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে।
এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, দ্বীপের সুজা এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ইরানের সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, দ্বীপের আশপাশের পরিস্থিতি ‘মোটামুটি শান্ত’। সেন্টকম আরও জানায়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।
ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এই জলপথের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই রয়েছে এবং তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা এটি আবার খুলে দেবে না।