মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

হাতীবান্ধা সীমান্তে বাঘের হামলায় আহত তিন, রাতভর পাহারায় গ্রামবাসী; ড্রোনে তল্লাশি চালাচ্ছে বিজিবি

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সীমান্তঘেঁষা গ্রামে বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর আতঙ্কে রাত কাটছে বাসিন্দাদের, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে মাঠে বিজিবি ও বন বিভাগ।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তঘেঁষা গ্রামে বাঘের আক্রমণে তিনজন আহত হওয়ার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘটি এখনো উদ্ধার না হওয়ায় রাতভর টর্চলাইট হাতে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী। বাঘটিকে খুঁজে বের করতে মাইকিং ও ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চালাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

স্থানীয়রা জানান, রোববার বিকালে উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরিফা বেগম নামে এক নারী বাঘের আক্রমণের শিকার হন। তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এসে আরও দুজন আহত হন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফা বেগমের স্বজন মমিনা বেগম বলেন, ছাগল আনতে গিয়ে শরিফা বাদামবাড়ির ধানখেতে কিছু একটা নড়তে দেখেন। কাছে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাঘ ছাগলটিকে মেরে ফেলে রেখেছে। এর কিছুক্ষণ পর পাশেই বাঁশ কাটতে যাওয়া দুজন ছাগলের কাছে গেলে বাঘটি হঠাৎ তাঁদের ওপর হামলা চালায়।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে ১৫ বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর বাঘটি পাশের জঙ্গলে চলে যায়। বাঘের অবস্থান শনাক্ত করতে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে এবং ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ড্রোন ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হবে এবং বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও এলাকাবাসীর আতঙ্ক কমাতে কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন বিভাগের সদস্যরাও বাঘটিকে উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করেছেন।

বিজিবি, পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথভাবে বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাঘটি সীমান্তবর্তী জঙ্গল বা কৃষিজমিতে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধার না করা পর্যন্ত সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

বাঘের হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তের গ্রামগুলোর অনেকেই মাঠে কাজ করতে বা নদীতে নামতে দ্বিধায় পড়ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বকুল মিয়া বলেন, সীমান্তের জঙ্গল এলাকায় চাষাবাদ, ছোট খাল-নদীতে মাছ ধরা ও পারাপারে মানুষ এখন ভয় পাচ্ছেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব বাঘটিকে উদ্ধারের দাবি জানান।