সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

বগুড়াসহ পাঁচ জেলা শহরে কত পুকুর আছে, তিন মাসের মধ্যে তালিকা দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

অবৈধ পুকুর ভরাট ও দখল ঠেকাতে ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বগুড়া, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম জেলা শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতগুলো পুকুর আছে, তার তালিকা দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিন মাসের মধ্যে হলফনামা আকারে এ তথ্য দিতে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে বলা হয়েছে।

বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে পাঁচ জেলা শহরে অবৈধভাবে পুকুর ভরাট ও দখল বন্ধে ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি থাকবেন। রেকর্ডে থাকা পুকুর যেন কেউ দখল বা ভরাট করতে না পারেন, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতেও কমিটিকে বলা হয়েছে। তবে ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী যেসব পুকুরের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা হয়েছে, সেগুলো এর আওতায় পড়বে না। এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের বাস্তবায়ন-অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আদেশের বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে, রেকর্ড করা পুকুর রক্ষায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং দখল-ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৮ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না। বড় শহরগুলোর জলাশয় ও পুকুর ভরাট নিয়ে গত ২৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যুক্ত করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে তিন আইনজীবী গতকাল রিটটি করেন। শুনানিতে রিটের পক্ষে ছিলেন মনজিল মোরসেদ, তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাসরিন সুলতানা; রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী।