মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী জুনের শেষে বা জুলাইয়ের শুরুতে কমলাপুর পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হতে পারে। এর আগে কমলাপুর পর্যন্ত পরীক্ষামূলক চলাচল আগামী জানুয়ারিতে শুরুর পরিকল্পনা ছিল এবং যাত্রী নিয়ে চলাচলের কথা ছিল এপ্রিলে; সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় পরীক্ষামূলক চলাচল শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে।
উত্তরা থেকে কমলাপুর মেট্রোরেলের নাম এমআরটি লাইন-৬। প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আবদুল ওয়াহাব বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চুক্তি আছে; তবে তিন মাস আগেই কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনের ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাসহ কিছু যন্ত্র জাপান থেকে আসতে দেরি হতে পারে, যে কারণে চালু কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
নির্মাণকাজে যুক্ত প্রকৌশলীদের তথ্য অনুযায়ী, লাইন বসানোর কাজ এখন পর্যন্ত ৩০ শতাংশ শেষ হয়েছে, যা ডিসেম্বর নাগাদ শেষ করতে চায় কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুতের কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া কমলাপুর স্টেশনে লিফট বসানো, সংকেতব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ভাড়া আদায়ের যন্ত্রপাতি বসানো, টাইলস লাগানো, শৌচাগার প্রস্তুত করা এবং পানির পাম্প বসানোর মতো কাজ বাকি আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রকৌশলী বলেন, উচ্চপর্যায় থেকে জুন-জুলাইয়ে মেট্রোরেল চালুর নির্দেশনা আছে এবং আনুষঙ্গিক কিছু কাজ বাকি রেখেই জুলাইয়ে চলাচল শুরু করা যেতে পারে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চালুর পর গত আগস্ট পর্যন্ত মেট্রোরেলে ৩১ কোটি ৩৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেছেন। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এখন দৈনিক যাত্রী সাড়ে চার লাখের ওপর। শুধু মতিঝিল স্টেশন দিয়েই দৈনিক প্রায় এক লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। কমলাপুর পর্যন্ত বর্ধিত অংশ চালু হলে দৈনিক যাত্রী ৬ লাখ ৭৭ হাজারে পৌঁছানোর প্রাক্কলন রয়েছে।
১ দশমিক ১৬ কিলোমিটারের এই সম্প্রসারিত অংশের ভৌত কাজ করছে থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতাল-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি। বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক কাজের জন্য ঠিকাদার নিয়োগে দেরি হয়েছে; সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ওই কাজের জন্য ৬৫১ কোটি টাকার দর প্রস্তাব করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় কমানোর চাপ দিলে দর-কষাকষির পর ব্যয় ১৮৬ কোটি টাকা কমে ৪৬৫ কোটি টাকায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসন অ্যান্ড ট্যুবরো কাজটি পায়। পুরো প্রকল্পের ব্যয় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যার প্রায় ৫৯ শতাংশ জাইকার ঋণ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ সামছুল হক বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন বেড়েছে; মেট্রোরেল কমলাপুর পর্যন্ত গেলে বাড়তি যাত্রী পাওয়া যাবে এবং সড়কের ওপর চাপ কমবে। এ সময়ে মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশনে যেতে যাত্রীদের অটোরিকশায় বাড়তি খরচ ও ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে।