বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

আর্জেন্টিনায় নানকে ২০ বছরের কারাদণ্ড: যৌন নিপীড়ন ও ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত।

আর্জেন্টিনার মেন্ডোজা প্রদেশে ক্যাথলিক চার্চের শিশু নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে এক নানকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর্জেন্টিনায় ক্যাথলিক চার্চের একটি কুখ্যাত শিশু নির্যাতন কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সাবেক নান কুমিকো কোসাকাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। যৌন নিপীড়ন এবং চার থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের উপর পুরোহিতদের চালানো নির্যাতন ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই সাজা তার দ্বিতীয় বিচারের পর এসেছে। মেন্ডোজার শ্রবণ-প্রতিবন্ধী শিশুদের আবাসিক বিদ্যালয় অ্যান্টোনিও প্রোভোলো ইনস্টিটিউটের নামানুসারে এই ঘটনা ‘প্রোভোলো অ্যাফেয়ার’ নামে পরিচিত। এক দশক আগে এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলে আর্জেন্টিনা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়, যেখানে কয়েক ডজন শিশু ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ২০১৯ সালের প্রথম বিচারে দুজন পুরোহিত, একজন মালি এবং একজন প্রাক্তন কোয়ার বালককে ১০ থেকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সেই বিচার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৩ সালে নান ও নারী কর্মীদের একটি দ্বিতীয় বিচার শুরু হয়, যেখানে কোসাকাকেও জড়িত থাকার এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও ২০২৩ সালের বিচারে কোসাকা সহ অভিযুক্ত সবাই প্রথমে খালাস পেয়েছিলেন, তবে আগস্ট মাসে মেন্ডোজা প্রদেশের সুপ্রিম কোর্ট তার খালাস বাতিল করে। এর ফলস্বরূপ নতুন বিচার ও চূড়ান্ত সাজা ঘোষিত হয়। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজনের বাবা এরিয়েল লিজারাগা এই ন্যায়বিচার পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমার মেয়ে এবং প্রোভোলো অ্যাফেয়ারের সব ভুক্তভোগীর জন্য যে ন্যায়বিচার চেয়েছিলাম, তা পেতে সক্ষম হয়েছি।” নির্যাতনের প্রথম অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কোসাকা ইনস্টিটিউট পরিচালনাকারী ধর্মীয় সম্প্রদায় ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এরপরই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি আইনি চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মুক্ত রয়েছেন, তবে মেন্ডোজা প্রদেশের বাইরে ভ্রমণ করতে পারবেন না।