শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

গর্ভে তিন সন্তান নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, ফল প্রকাশের আগেই মারা যাওয়া শেরপুরের সুমাইয়া পেলেন জিপিএ-৫

বগুড়ার শেরপুরের সুমাইয়া খাতুন কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন, কিন্তু সেপ্টেম্বরে মারা যাওয়ায় ফল দেখে যেতে পারেননি।

দশটি বিষয়ের মধ্যে নয়টিতে এ প্লাস ও একটিতে এ গ্রেড, ঐচ্ছিক বিষয়সহ জিপিএ ৫। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষায় এমন অসাধারণ ফল করেছেন মোছা. সুমাইয়া খাতুন (১৯)। কিন্তু ফল প্রকাশের আগেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। সাফল্যের এই খবর এখন পরিবারের কাছে আনন্দের বদলে গভীর শোকের স্মৃতি হয়ে এসেছে।

সুমাইয়া বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শালফা টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর পরীক্ষার রোল নম্বর ৪১২৭৯৪। মূল জিপিএ ৪.৮০ হলেও ঐচ্ছিক বিষয়সহ চূড়ান্ত জিপিএ দাঁড়িয়েছে ৫.০০।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সুমাইয়া উপজেলার শালফা এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন ও মোছা. রেশমা খাতুনের মেয়ে। তিনি একই উপজেলার শুভগাছা গ্রামের আব্দুল মতিনের স্ত্রী ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গর্ভে ছিল তিনটি সন্তান।

সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময়ের মাত্র ২০ দিন আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মায়ের সঙ্গে গর্ভের তিন সন্তানও পৃথিবীর আলো দেখতে পারেনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সুমাইয়ার অনেক স্বপ্ন ছিল। ভালো ফলের খবরে স্বজনেরা একদিকে গর্ববোধ করছেন, অন্যদিকে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মানুষটিকে না পেয়ে শূন্যতা ও যন্ত্রণায় ভুগছেন।