ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘লাল চিনি’ অবশেষে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। আখের রস থেকে হাতের তৈরি এই চিনি প্রায় ২৫০ বছর ধরে স্থানীয় কারিগররা কোনো ধরনের যান্ত্রিক সরঞ্জাম ছাড়াই উৎপাদন করে আসছেন। কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতিবছর প্রায় ১০০ কোটি টাকার লাল চিনি দেশে বিক্রি হয়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, আজ (২৬ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। গত বছরের ১১ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) ২৭ মে এ বিষয়ে জার্নালে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। যেহেতু কোনো আপত্তি আসেনি, তাই নির্ধারিত ফি প্রদান শেষে আজ সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে।
জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে ‘লাল চিনি’ পণ্যের বিশেষত্ব ও আঞ্চলিক পরিচিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হবে। কৃষি কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, “যারা আগে ফুলবাড়িয়ার লাল চিনির নাম জানতেন না, তারাও এখন জানতে পারবেন। এটি কৃষকদের আরও উৎপাদনে উৎসাহিত করবে, সরকারও বেশি করে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে কৃষকদের আয় ও দেশের অর্থনীতি উভয়ই শক্তিশালী হবে।”
ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) হলো এমন একটি চিহ্ন, যা পণ্যের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক উৎসকে নির্দেশ করে এবং সেই অঞ্চলের বিশেষ গুণাগুণ, মান বা খ্যাতিকে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে জামদানি, হিলশা, রাজশাহীর সিল্ক, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চালসহ বেশ কয়েকটি পণ্য জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার তালিকায় যুক্ত হলো ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জিআই ট্যাগ পাওয়ার ফলে দেশীয় বাজারে লাল চিনির চাহিদা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশি বাজারেও ব্র্যান্ডিং করে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষক ও উৎপাদকরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত হবে।
ফুলবাড়িয়ার লাল চিনির জিআই স্বীকৃতি শুধু একটি পণ্যের স্বীকৃতি নয়—এটি গ্রামীণ অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণেরও প্রতীক।