রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই বিভাগের তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, সিরাজী ভবনের সামনে কোর্টের জায়গা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে বাঁশ পুঁতে কোর্টের জায়গা ঠিক করে রেখেছিল। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে কথা-কাটাকাটি থেকে মারামারি শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত শিক্ষার্থী তানভীর হোসাইন অভিযোগ করেন, অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালান এবং কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এতে তাঁর নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে, নাক দিয়ে রক্ত ঝরে। তাঁর দাবি, অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির সপক্ষে সেখানে দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন ছিল না।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিন্ন বিবরণ দেন। তাঁর ভাষ্য, জায়গাটি তাঁরাই আগে বাঁশ পুঁতে ঠিক করে রেখেছিলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের একটি অনুষ্ঠানের জন্য সেখানে কিছু বাঁশ পোঁতা হলে পরে সব বাঁশ তুলে নেওয়া হয়। এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা সেখানে কোর্ট বানাতে চাইলে তাঁদের জুনিয়ররা বাধা দেন। তখন ওই বিভাগের ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রক্টর এসে বিষয়টি মীমাংসা করার পর তাঁরা চলে যেতে চাইলে আবার হামলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, কে আগে খুঁটি পুঁতেছিল তা নিয়ে বিরোধ হয়েছে। প্রথম দফায় তাঁরা মীমাংসা করে দেন। দ্বিতীয় দফায় আবার হাতাহাতি হয়। তৃতীয় দফায় দুই বিভাগের শিক্ষকদের ডেকে এনে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলা হলে তাঁরা মমতাজউদ্দিন ভবনের সামনে গিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এ এইচ এম খুরশিদ আলম বলেন, আহত তিনজনের একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং আরেকজন হাতে ব্যথা পেয়েছেন। তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভেঙেছে কি না তা জানতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক্স-রে করা হয়, তবে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। তিনজনই চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে গেছেন এবং কারও অবস্থা গুরুতর নয়।