রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

চতুর্থ দিনে সাজেকের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ, পর্যটকশূন্য রিসোর্ট; সমাধানে তিন সদস্যের কমিটি গঠন

জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে কমিটি হয়েছে; অবরোধকারী সংগঠন বলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ রোববার চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। সকাল থেকে সাজেক সড়কে কোনো যান চলাচল করেনি। পর্যটক না থাকায় সুনসান পড়ে আছে সাজেকের জনপ্রিয় রুইলুই পর্যটনকেন্দ্র।

সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে এখন কোনো পর্যটক নেই; হোটেল-রিসোর্টের কর্মীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন, রেস্তোরাঁতেও ক্রেতা নেই। অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন সড়কে পিকেটিং চলছে বলে জানান সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা। তাঁর ভাষ্য, ১০ নম্বর, ১৪ কিলো ও হাজাছড়া এলাকায় পিকেটিং চলছে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধ চলাকালে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার রয়েছে।

সংকট নিরসনে রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে হেডম্যান ও কার্বারিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। সভায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়; সদস্যরা হলেন কল্যাণমিত্র চাকমা, ভবতোষ দেওয়ান ও শান্তি বিজয় চাকমা। শান্তি বিজয় চাকমা জানান, আলোচনার সভা কবে হবে তা এখনো জানানো হয়নি। ওয়াদুদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, সাজেকে কিছু গোষ্ঠী সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তবে এর জন্য তিনি স্থানীয়দের দায়ী করছেন না।

সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তিন দফা দাবিতে ১১ অক্টোবর এক দিনের অবরোধ করে। ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ডাক দেওয়া হলেও দুর্গাপূজার কারণে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর কর্মসূচি স্থগিত ছিল। গত বুধবার তাঁরা বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ঘোষণা করেন। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন পর্যটনকেন্দ্র সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করে। ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় গোলাগুলি হয়; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলেছে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি চালিয়েছেন, তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।