বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগে জেলা যুবদলের সদস্যসহ ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ১৬ অক্টোবর তাঁকে মারধর করে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়; অভিযুক্ত নেতা মারধরের কথা স্বীকার করলেও ছিনতাই অস্বীকার করেছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, হত্যার হুমকি ও পকেট থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা যুবদলের এক সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সদস্য আল আমিন বিশ্বাসকে প্রধান আসামি করে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন (৪১)।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে আল আমিন বিশ্বাস রুবেল হোসেনের শোরুম থেকে ৬ হাজার টাকা নগদ দিয়ে বাকিতে একটি এলইডি টেলিভিশন কেনেন। এ বাবদ আরও ২ হাজার ৫০০ টাকা পাওনা ছিল। বাকি টাকা চাইতে গেলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন। গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে গোমস্তাপুর ইউনিয়নের বাজারপাড়া বাজারে একটি ডেকোরেটরের দোকানে রুবেলকে ডেকে নেওয়া হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, সেখানে আল আমিন, তাঁর ভাই মোমিন হোসেন ও নুরুল ইসলামসহ ২০ থেকে ২৫ জন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে মারধর করেন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে গলা চেপে ধরা হয়, পকেটে থাকা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় লোকজন আহত রুবেলকে উদ্ধার করে গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। রুবেলের দাবি, ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাঁকে কয়েকজনের মারধর করতে এবং আল আমিনকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

রুবেল হোসেন বলেন, হামলার পর তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তের ভাই তাঁর বাড়িতে বোমা ফাটানোর প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অভিযুক্ত আল আমিন বিশ্বাস বলেন, টেলিভিশন কেনার সূত্রে রুবেল তাঁর কাছে আড়াই হাজার টাকা পেতেন। ওই টাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় এবং মীমাংসার জন্য সন্ধ্যায় বসলে রুবেল উচ্চবাচ্য করেন। তখন তাঁর লোকজন রুবেলকে মারধর করেছেন। তবে টাকা ছিনতাই ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ সত্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, ২৬ অক্টোবর থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।