বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

দুর্গাপূজায় ৭৯৩ মণ্ডপে ‘অসুরের মুখে দাড়ি’ ঘটনার তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ঘটনাস্থলগুলোতে জিডি করা হয়েছে; ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে

 স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
ছবি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অংশ নেওয়া মূর্তির অসুরের মুখে দাড়ি লাগানোর ঘটনা মিলেছে—মোট ৭৯৩টি মণ্ডপে এমন আচরণ হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান।

রোববার (৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন ৭৯৩টি মণ্ডপে মূর্তির অসুরের মুখে দাড়ি লাগানোর ঘটনা ধরা পড়েছে। প্রতিটি ঘটনার জন্য জিডি করা হয়েছে এবং কারা এই কাজগুলো করেছে তা অনুসন্ধান চলছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ঘটনাগুলো সন্দেহজনকভাবে পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলে তাদের সহায়তা কামনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতারা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ও সহায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিতভাবে তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভার সময় তিনি আরও বলেছেন, পূজা-অনুষ্টান চলাকালে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। যেসব স্থানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা দেখা গেছে, সেগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বৈঠকে এ প্রসঙ্গে কিছু ভিন্নমত ও ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনাও উল্লিখিত হয়েছে; তার ভাষ্য—কিছু ঘটনার পেছনে প্রতিবেশী দেশ বা ফ্যাসিস্ট শক্তিরও ইন্ধনের শঙ্কা থাকায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তিনি বলেন, এসব অভিযোগের প্রমাণ পেলেই বহিরাগত বা আভ্যন্তরীণ যে কোনো হস্তক্ষেপ উন্মোচন করে আইনগত পথে নেওয়া হবে।

প্রতি ঘটনার জন্য জিডি হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত চলাকালীন সময়ে অভিযোগপ্রাপ্ত এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করেছে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের কোনো অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা বা পার্টিসূচক বিষয়ে মন্তব্য করতে অনিচ্ছুক ছিলেন।

 

বাংলাদেশে প্রাণের উৎসবগুলোর সময় সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে—তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও ধর্মীয় নেতা-প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করাই নীতি হিসেবে নেওয়া হয়। এই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রশাসন শুরুতেই জিডি গ্রহণ করে তদন্তে নামায় যা পরিস্থিতি শিথিল করার এক ধাপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।