বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা চুক্তিতে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র

চুক্তি অনুযায়ী গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম চালানোর স্থায়ী সুযোগ পাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তাসংক্রান্ত একটি স্থায়ী চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তিটি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে। এ চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়া ও চীনসহ ন্যাটোর বহির্ভূত যেকোনো শক্তির সামরিক তৎপরতা ও আধিপত্য গ্রিনল্যান্ডে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন গ্রিনল্যান্ডে প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার স্থায়ী সুযোগ পাচ্ছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে সেনা মোতায়েন, বিমান চলাচল এবং সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে। চুক্তি অনুসারে, মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং কৌশলগত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করা হবে। অভিযোগ রয়েছে ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও নিরাপত্তা কাঠামোর শর্তগুলি বহাল থাকবে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অপরিসীম। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র চলাচলের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ভৌগোলিক পথ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রিনল্যান্ডের মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে সোনা, হীরা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং দুর্লভ খনিজ উপাদানগুলো রয়েছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর পড়েছে এ অঞ্চলের উপর। গ্রিনল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এটি যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কৌশলগত অবস্থান জোরদারের সুযোগ দেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এ চুক্তি মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় গ্রিনল্যান্ডে একটি চিরস্থায়ী সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান আরো মজবুত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।