বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬

মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদ; ট্রাম্পের কটাক্ষের জবাবে বললেন, ‘এখন থেকে আমাকে সিনেটর ডাকতে পারেন’

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে ২৩৭ বছরের সিনেট ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সদস্য হয়েছেন ৪২ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সাইয়েদ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে দেশটির সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সাইয়েদ। মঙ্গলবারের এ জয়ের মধ্য দিয়ে ১৭৮৯ সালে সিনেটের কার্যক্রম শুরুর পর ২৩৭ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মুসলিম সিনেটর হলেন। অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জিতেছেন তিনি।

মিসরীয় অভিবাসী মা-বাবার সন্তান ৪২ বছর বয়সী আল-সাইয়েদের জন্ম মিশিগানের রচেস্টার হিলসে। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে স্নাতক, ২০১১ সালে রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড থেকে জনস্বাস্থ্যে ডক্টরেট এবং ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন। ২০১৫ সালে ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান শিবিরের একের পর এক কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁর মুসলিম নাম নিয়ে উপহাস করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি এই চিকিৎসককে যা খুশি ডাকার অধিকার রাখেন।

বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর সমর্থকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে আল-সাইয়েদ ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, এটি নিয়তির চরম পরিহাস—সংবিধান অনুযায়ী আগামী জানুয়ারিতে আমাকে শপথ পাঠ করাতে আপনি বাধ্য।’ ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তাঁর নাম উচ্চারণ করতে ট্রাম্পের কষ্ট হয় জানেন, তাই ভ্যান্স শপথ পড়ালে তখন থেকে ট্রাম্প তাঁকে ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারেন। অভিবাসী মা-বাবাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেন কেউ নাম বা প্রার্থনার ধরন নিয়ে প্রকাশ্যে উপহাসের শিকার হয়—এ প্রশ্নের ব্যাখ্যা সন্তানদের দিতে গিয়ে যাঁরা হিমশিম খেয়েছেন, তাঁদের জন্য এই জয় সাহস জোগাবে।

আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরের বিভক্তিও স্পষ্ট হয়েছিল। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে এ জয়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।