সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার বলেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাচার হয়েছে এবং তা ফেরাতে মার্কিন সরকারের সহায়তা দরকার।

বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসোদা মাকসোদির নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর অর্থ পাচার হয়েছে। এসব অর্থ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাক্ষাতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার, তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ এবং বিদেশফেরত শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। স্পিকার জানান, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকির কথা তুলে ধরে স্পিকার বলেন, দেশটি তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ করলেও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে আছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকা ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। তাঁর মতে, মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে; জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলা ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের প্রসঙ্গও ওঠে। সাক্ষাতের সময় উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদল ছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।