শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

সুন্দরবনের দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার কবলে জেলেরা, খালে আশ্রয়

ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে উত্তাল সাগর ও ঝোড়ো হাওয়ায় চরে নামতে পারেননি শুঁটকিকরণ জেলেরা; ৩০ অক্টোবর থেকে মৌসুম শুরু হয়েছে।

মৌসুমের শুরুতেই বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন সুন্দরবনের দুবলারচরের শুঁটকিকরণ জেলেরা। বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকা ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে শুক্রবার সকালে দুবলারচরের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছেই তাঁরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নৌকা ও ট্রলার নিয়ে বনের খালে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে সাগরে ঝোড়ো হাওয়া ও প্রবল ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রওনা হয়ে জেলেদের বহর শুক্রবার সকালে দুবলার আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচরে পৌঁছায়। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা চরে নেমে অস্থায়ী ঘর ও মাছ শুকানোর গোলা তৈরি করতে পারেননি। বাধ্য হয়ে তাঁরা নৌকা ও ট্রলার নিয়ে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেন।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান জানান, শুক্রবার সকালে দুবলারচরে পৌঁছেই জেলেরা বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়েন। আবহাওয়ার কারণে তাঁরা সাগরে মাছ ধরতেও যেতে পারেননি।

বন বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ৩০ অক্টোবর থেকে দুবলারচরে শুঁটকি মৌসুম শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সাত হাজারের বেশি জেলে সেখানে সমবেত হয়েছেন। আলোরকোল, মাঝেরকেল্লা, নারিকেলবাড়িয়া ও শেলারচর নিয়ে গঠিত শুঁটকিপল্লীতে প্রতি বছর খুলনা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বাগেরহাট ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ১০ হাজার জেলে আসেন।

আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত জেলেদের খালেই অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে শুঁটকি তৈরির প্রস্তুতি পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।