বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

বগুড়ার আদমদীঘিতে ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না, অভিযোগ ভুক্তভোগীদের; ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ

নামজারি, খতিয়ান সংশোধন ও খাজনা আদায়ের প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা; সহকারী কমিশনার (ভূমি) মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ভূমি অফিসগুলোয় ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মিলছে না বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও নানা অনিয়মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলায় ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, আদমদীঘি সদর, ছাতিয়ানগ্রাম, সান্তাহার, কুন্দগ্রাম, চাঁপাপুর ও নশরতপুর ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান সংশোধন, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা আদায়ের প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হয়। তাঁদের দাবি, বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর অনিয়মের কৌশল বদলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি আবেদন না নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগোর মাধ্যমে বিভিন্ন তহশিলদার ও দালালের একটি চক্র হাজার হাজার টাকা আদায় করছে। টাকা না দিলে মাসের পর মাস অফিসের বারান্দায় ঘুরেও কাজ হয় না বলে তাঁদের ভাষ্য।

ভুক্তভোগী সানাউল হক জানান, জিনরী মৌজার দুটি খতিয়ান সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদনের পর দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে এক কর্মকর্তা তাঁর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেন। টাকা দিয়েও সম্পূর্ণ সুরাহা না পেয়ে তিনি গত ৪ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কুসুম্বী গ্রামের ময়েন উদ্দিন ও আলম হোসেন জানান, আট মাস ঘুরেও তাঁদের খতিয়ান সংশোধন হয়নি; উল্টো নথিপত্র হারিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে তাঁরাও গত ১ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন। তেঁতুলিয়া গ্রামের মুকুল হোসেন বলেন, চার বছর আগে নামজারির আবেদন করতে গিয়ে তিনি তহশিলদার ও তখনকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এসব অভিযোগ নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই; তবে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।