কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ আরও দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে একজনের এবং সন্ধ্যায় আরেকজনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ নিয়ে বুধবার বিকেলের ওই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে। নয়া দিগন্ত ও সমকাল এ তথ্য জানিয়েছে।
সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের হিমছড়ির প্যাঁচার দ্বীপ সৈকত থেকে চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মো. হারুনের (২০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যায় কলাতলী এলাকার সৈকতে ভেসে আসে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম নাফিসুর রহমান নিবিড়ের (২৩) মরদেহ। সমকাল সময়টি সন্ধ্যা ৭টার দিকে এবং নয়া দিগন্ত সাড়ে ৭টার দিকে বলে উল্লেখ করেছে।
নয়া দিগন্ত জানিয়েছে, নিবিড়ের মরদেহ ভেসে এলে স্বজন, লাইফগার্ড কর্মী ও পুলিশ গিয়ে তা উদ্ধার করে। হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সোলাইমান হোসেন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সর্বশেষ মরদেহ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্যও, জানিয়েছে সমকাল।
যেভাবে দুর্ঘটনা
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন হিমছড়ির মেরিনা রিসোর্টের জাদুঘরের পাশের সৈকতে গোসলে নেমে কয়েকজন পর্যটক ডুবে যান। নয়া দিগন্তের তথ্যমতে, সেদিন সন্ধ্যায় লাইফগার্ড কর্মী ও স্থানীয়রা তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং একজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ, বিচকর্মী ও স্বজনদের বরাতে সমকাল লিখেছে, পূজার ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গোসলে নেমে সাগরে তলিয়ে যান; তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে ডুবে যান আরও দুই পর্যটক। আগে উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) বিবিএর শিক্ষার্থী আল মাহিবুর ইবনে মোকাররম (২৪), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শিক্ষার্থী সাইবুল হক জিসান (২৩) এবং চট্টগ্রামের চাকরিজীবী মোহাম্মদ আকাশ (২১)। মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার হওয়া রাকিব হাসান (১৯) কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
আকাশের সঙ্গে বেড়াতে আসা এক বন্ধু সমকালকে জানান, তাঁরা চট্টগ্রামের একটি কারখানায় কাজ করেন এবং পাঁচ বন্ধু মিলে কক্সবাজারে এসেছিলেন। হাঁটুপানিতে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বড় ঢেউ এসে তাঁদের স্রোতের টানে ভাসিয়ে নিতে থাকে। পাশে থাকা কয়েকজনের কাছে সাহায্য চাইলে তাঁরা এগিয়ে এসে নিজেরাও ডুবে যান। কোনোমতে কয়েকজন তীরে উঠতে পারলেও দুজন ভেসে যান বলে জানান তিনি।
নিখোঁজ দুজনের খোঁজে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীরা অভিযান চালান। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসআই সোলাইমান হোসেন।