সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুওয়াইনের সৈকতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে নিঃসৃত তেল ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়ে উম্ম আল কুওয়াইনের সব সৈকত ও উপকূলীয় এলাকা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে সৌদি দৈনিক আরব নিউজ এ খবর দিয়েছে; যুক্তরাজ্যভিত্তিক মিডল ইস্ট আইও সৈকত বন্ধের ঘোষণা প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশগত মূল্যায়ন ব্যবস্থায় তেল নিঃসরণটি ধরা পড়ে। এরপর স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সঙ্গে সঙ্গে তেল আটকানো, এলাকা ঘিরে রাখা, পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। ক্ষতির ব্যাপ্তি নির্ধারণে উপকূলজুড়ে জরিপ ও মূল্যায়ন চলছে।
শারজা, আজমান ও উম্ম আল কুওয়াইনের বাসিন্দারা বাতাসে তেলের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এ গন্ধ বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি করছে না।
জেলেদের সতর্ক থাকার আহ্বান
আরব নিউজ জানিয়েছে, কারিগরি দল মূল্যায়ন শেষ করে নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষার ব্যবস্থা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত সৈকতগুলো বন্ধ থাকবে। জেলে ও সমুদ্র ব্যবহারকারীদের কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি মাধ্যমের হালনাগাদ তথ্যের ওপর নির্ভর করারও আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তবে কোন ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়েছে, কী পরিমাণ তেল সাগরে পড়েছে কিংবা নিঃসরণের কারণ কী, এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি। সৈকত কবে খুলে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
প্রেক্ষাপট
ইরান যুদ্ধ ঘিরে চলতি বছর উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় জাহাজ চলাচল বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে আরব নিউজের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ৯ অক্টোবর আমিরাতের উপকূলে অজ্ঞাত একটি বস্তুর আঘাতে পানামার পতাকাবাহী একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা পরে নেভানো হয়। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে উম্ম আল কুওয়াইনের এই তেল নিঃসরণের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, কর্তৃপক্ষ তা বলেনি।