বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করার লক্ষ্য, ঢাকায় শুরু প্রথম দফা আলোচনা

বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একাধিক দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করার নীতি জোরদার করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত এফটিএ আলোচনা আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কৌশলগত লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দেশীয় বাজারে ডালের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে এক বৈঠকের শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে প্রথম দফার দ্বিপক্ষীয় এফটিএ আলোচনা শুরু হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ড. রশিদি সাইদের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।

এফটিএ কেন জরুরি, তার ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে গেলে বিশ্ববাজারে এত দিন পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রপ্তানিসুবিধা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহাল থাকবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ কিছু বাণিজ্যিক অংশীদার অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সুবিধা চালু রাখার আশ্বাস দিলেও তা কঠোর শর্তসাপেক্ষ। ফলে এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বিদেশের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), এফটিএ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করা অপরিহার্য।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন ব্যাপকভাবে মালয়েশিয়ার অনুকূলে রয়েছে। বাংলাদেশ প্রধানত ভোজ্যতেল, বিশেষ করে পাম তেল আমদানির জন্য দেশটির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, এফটিএ সই হলে দুই দেশের বাণিজ্যবৈষম্য কমে আসবে। মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পোশাক, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে, আর বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসার নতুন পথ খুলবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ একাধিক দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, হংকং, ওমান ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে শিগগিরই প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও এফটিএ আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি চলছে। এসব চুক্তি সফলভাবে শেষ করা গেলে এলডিসি-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ সামলে রপ্তানি আয় ও প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করছে মন্ত্রণালয়।