অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবারকে ঘরছাড়া করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার হেবরনের পশ্চিমে ফারশ আল-হাওয়া চেকপোস্টের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। শনিবার সকালে বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হেবরনে ‘সন্ত্রাস দমনের অভিযান’ চালাচ্ছে। অভিযানে সেনাবাহিনীর সঙ্গে শিন বেত ও সীমান্ত পুলিশ সমন্বয় করে কাজ করছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য, হামলায় জড়িত সন্দেহে দুই ফিলিস্তিনিকেও সেনাদের গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ও অস্ত্র খুঁজছে এবং কয়েক ডজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সেনাবাহিনী আরও বলেছে, বাসিন্দারা নির্ধারিত পথ দিয়ে এলাকা ছাড়তে পারছেন।
বাসিন্দাদের বর্ণনা ভিন্ন। আল-জালদা, আইন দেইর বাহা, ওয়াদি আল-মাঘারিবা ও শিব আল-মিলহ এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, তাঁদের বন্দুকের মুখে বাড়ি থেকে বের হতে বলা হয়েছে; জিনিসপত্র গোছানোর সময় প্রায় দেওয়া হয়নি এবং কবে ফিরতে পারবেন, তা-ও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। আল-জালদায় হামলায় নিহত দুই সন্দেহভাজনের পরিবার বসবাস করে। বাসিন্দারা জানান, সেনারা কিছু বাড়িতে কালো ‘এক্স’ চিহ্ন এঁকে দিয়েছে; এর অর্থ তাঁরা বুঝতে পারেননি।
ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেছেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনিকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। হেবরনের পৌর মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি বলেন, ইতিমধ্যে ঘরছাড়াদের পাশাপাশি আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ বাড়ি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। অন্য এক হিসাবে আল-জালদা ও আইন দেইর বাহা থেকে প্রায় ৩০০ পরিবারকে সরানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি সংগঠন প্যালেস্টিনিয়ান প্রিজনার্স ক্লাব জানিয়েছে, শুক্র ও শনিবার পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় ৭০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাঁদের বেশির ভাগই সাবেক বন্দি। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘সম্মিলিত শাস্তি’ বলে নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছে। মেয়র আল-জাবারির অভিযোগ, মঙ্গলবারের ইসরায়েলি সংসদ নির্বাচনের আগে বসতি স্থাপনকারীদের ভোট টানতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে, আসন্ন নির্বাচন যেন ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক অপরাধ থেকে মনোযোগ সরিয়ে না নেয়।
এর আগে শুক্রবারের ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম তীরে বড় পরিসরে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পর থেকে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে প্রবেশপথ বন্ধ করে চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে বলে ফিলিস্তিনিরা জানান।