মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পেত্রোর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির জন্য উদ্বেগজনক। এর প্রতিক্রিয়ায় শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পেত্রো বলেন,
“আমার আর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নেই। তাতে কী? আমার প্রয়োজনও নেই। আমি শুধু কলম্বিয়ারই নই, ইউরোপেরও নাগরিক। আমি নিজেকে মুক্ত মানুষ মনে করি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করায় তাঁর ভিসা বাতিল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভে দেওয়া বক্তব্যে পেত্রো বলেন, ফিলিস্তিনিদের মুক্তির জন্য একটি বৈশ্বিক সশস্ত্র বাহিনী গঠন করতে হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও শক্তিশালী হবে।
এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্টের ভিসা বাতিলের দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আর্নেস্তো সামপারের ভিসা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির কারণে বাতিল করা হয়েছিল।
ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ওয়াশিংটন-বোগোতার সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতে কলম্বিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিতাড়িতদের ফেরত পাঠানোর ফ্লাইট আটকে দিলে ওয়াশিংটন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেয়। পরে সমঝোতা হলেও দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।
এছাড়া জুলাইয়ে উভয় দেশ রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়, যখন পেত্রো মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালেই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন এবং দেশটিতে কয়লা রপ্তানি বন্ধ করে দেন।