রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকার নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে ফের সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ দ্বিতীয় দফা হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ নারীসহ ১৪ জনকে থানায় নিয়ে এসেছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, একদল সশস্ত্র ব্যক্তি হঠাৎ প্রকল্প এলাকায় ঢুকে নিরাপত্তাকর্মী ও নির্মাণ মিস্ত্রীদের ওপর চড়াও হন। অস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং প্রকল্প তদারকির কাজে ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি ওয়াকিটকি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে খবর দিলে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং জড়িতদের বিষয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। থানার ডিউটি অফিসার জানান, মারধর ও হামলার ঘটনায় চারজন নারীসহ মোট ১৪ জনকে থানায় আনা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে থানা পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে কাজ করছে।
প্রথম মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই নতুন করে এতে যুক্ত হয়েছেন; স্থানীয় যুবলীগ নেতা বাবুল ও রুবেল নামের একজন প্রত্যক্ষভাবে অংশ নেন বলেও তিনি দাবি করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এ দাবির বিষয়ে আলাদা কোনো মন্তব্য জানা যায়নি। বাদীর ভাষ্য, আগের হামলায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। এবার পুলিশ কিছু মোবাইল উদ্ধার করলেও ওয়াকিটকিগুলো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আটজন জামিনে মুক্ত। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, জামিনে বেরিয়ে তাঁদের কেউ কেউ আবার এবারের হামলায় অংশ নিয়েছেন। ঘটনার এক মাসের বেশি পরও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মূল সমন্বয়ক হিসেবে অভিযুক্ত মো. যুবরাজকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আটক ব্যক্তিরা এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত হননি।