বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

উৎপাদন খরচ না পেয়ে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষক, উৎপাদন কমার শঙ্কা

সার, কীটনাশক ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ছেন।

উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন দেশের কৃষক, যার ফলে ভবিষ্যতে ধানের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার, কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় ধানের উৎপাদন খরচ এখন অনেক বেশি পড়ছে, কিন্তু সে অনুযায়ী বাজারে ধানের দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। নেত্রকোনার খালিয়াজুড়ীতেও ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকরা হতাশ। এক মণ ধান উৎপাদন করতে যেখানে এক হাজার টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে, সেখানে বাজারে প্রতি মণ ধান ৯০০ টাকা কিংবা তারও কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি হাওড়ের জমির পত্তন বাজারেও প্রভাব ফেলেছে, যার কারণে এক মৌসুমের জন্য জমি পত্তনের দাম গত বছরের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। খালিয়াজুরী উপজেলার মানুষের বড় একটি অংশের জীবিকা বোরো ধানকেন্দ্রিক। গত বছর নজরুল ইসলাম তার ১২ একর জমি ২ লাখ টাকায় পত্তন দিয়েছিলেন, কিন্তু এই বছর একই জমি মাত্র ৬৩ হাজার টাকায় লিটন মিয়ার কাছে পত্তন দিয়েছেন। এতে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পত্তনমূল্য কমেছে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কম। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য ধানের মান ধরে রাখতে না পারায় হয়তো দামে প্রভাব পড়েছে। তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেটজনিত কোনো কারণ এ উপজেলায় ঘটে থাকলে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের আবাদ ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ। কৃষকদের অভিযোগ, আড়তদার ও মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়েছেন। তবে আড়তদাররা বলছেন, কাঁচা ধানে মিল মালিকদের চাহিদা না থাকায় দাম তুলনামূলক কমেছে। ঘোষণগর ইউনিয়নের উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের চাষি তরিকুল ইসলাম শাওন জানান, এবার আউশ আবাদে খরার কারণে বেশি সেচ দিতে হয়েছে, ফলে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বাড়ায় উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় অন্তত ২ থেকে ২.৫ হাজার টাকা বেশি হয়েছে। কৃষকদের হিসাবে এবার আউশ চাষে বিঘাপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ১৩ থেকে ১৬ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রকারভেদে ৭৬০ থেকে ৮৫০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি হচ্ছে, যেখানে গত বছরও এক মণ ধান বিক্রি হয়েছে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টাকায়। এই অবস্থায় বর্গাচাষিরা সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন। কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন পরামর্শ দেন, কৃষক মাড়াই শেষে কাঁচা ধান সঙ্গে সঙ্গে বাজারে নিয়ে আসায় দাম কম পাচ্ছেন। এই সময়ে ধান বিক্রি না করে শুকিয়ে ঘরে সংরক্ষণ করে কিছুদিন পর বিক্রি করলে দাম বেশি পেতে পারেন।