রাজশাহীর বাগমারায় বিয়ের দাবিতে সৌদি আরবপ্রবাসী এক নারীর অনশনের এক মাস পূর্ণ হতে চলেছে। এর মধ্যে প্রেমিকের মা ওই নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে। ঘটনাটি ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রাড়োপাড়া মহল্লার।
গত ১১ অক্টোবর নাটোরের লালপুর উপজেলার বাসিন্দা লেটিশিয়া বিশ্বাস (২৯) বিয়ের দাবিতে নীরব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। লেটিশিয়ার দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নীরবের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং বিয়ের আশ্বাসে নীরব ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, অনশন শুরুর দিন তাঁকে বাড়িতে দেখে নীরবের মা প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চলে যান। এক মাসেও পরিবারের কেউ বাড়িতে ফেরেননি। এ সময় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বাড়ির দেখভালের দায়িত্বও তাঁকেই পালন করতে হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে নীরবের মা বুলবুলি বেগম রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নম্বর ৬৯০পি/২০২৬) করেছেন। মামলায় লেটিশিয়া ও স্থানীয় গোলাপ হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাড়ির প্রধান ফটক ও শয়নকক্ষের তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশ করা হয়েছে, বাড়িতে থাকা গবাদিপশু, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এজাহারে দুটি গরু ও দুটি বাছুরের আনুমানিক মূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা, ঘরে আড়াই লাখ টাকা নগদ, দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও তিন ভরি রুপার অলংকার থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
লেটিশিয়া বলেন, তিনি কাউকে ক্ষতি করতে আসেননি; বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও নিজের দেওয়া অর্থের ন্যায্য সমাধান চান। তাঁর দাবি, নীরবের পড়াশোনা, জমি কেনা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন কেনাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে তিনি ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে টাকা দিয়েছেন এবং এর প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। তিনি পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার চান।
নীরবের মা বুলবুলি বেগম মুঠোফোনে বলেন, বাড়ির গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি ও অন্যান্য সম্পত্তি অন্যরা ভোগদখল করছে বলেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্যই মামলা করেছেন এবং কোনোভাবেই ওই নারীর সঙ্গে ছেলের বিয়ে দেবেন না বলে জানান। প্রেমিক নীরব হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও আইনি নিষ্পত্তি এখন আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।