শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬

অঙ্গীভূত আনসারের বেতন বাড়ানো ও গ্র্যাচুইটি চালুর উদ্যোগ চূড়ান্ত পর্যায়ে: আনসার মহাপরিচালক

রেস্ট প্রথা বাতিলের পর এবার অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি ও গ্র্যাচুইটি চালুর বিষয়টিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক।

অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের দীর্ঘদিনের রেস্ট প্রথা বাতিলের পর এবার বেতন বৃদ্ধি ও গ্র্যাচুইটি চালুর উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তাঁর ভাষ্য, সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক সংস্কার আনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অ্যাকাডেমিতে অঙ্গীভূত আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ-২০২৬-এর সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও তিনি বাহিনীর সংস্কার, সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা ও গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।

ডিজি বলেন, অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ছিল রেস্ট প্রথা। ছয় মাস থেকে দুই বছর দায়িত্ব পালনের পর আবার অঙ্গীভূত হওয়ার জন্য তাঁদের অপেক্ষা করতে হতো, যা জীবন-জীবিকাকে অনিশ্চিত করত। এ প্রথা বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও আইন সংস্কারের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে। বেতন বৃদ্ধি ও গ্র্যাচুইটি নিয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি আশা করেন। রেশন বাড়ানো হয়েছে, আবাসন, নিজ বিভাগে বদলি ও অন্যান্য কল্যাণমূলক সুবিধা সম্প্রসারণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগে অঙ্গীভূত আনসারের জনবল ছিল প্রায় ৪৯ হাজার, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তা এখন প্রায় ৫৮ হাজারে পৌঁছেছে। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অঙ্গীভূত আনসার মোতায়েনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে এবং সদস্যরা নিজ এলাকার কাছাকাছি কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে ডিজি বলেন, আগের দিন একটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছিল, বৃহস্পতিবার আরও চারটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। তুরস্কের জেন্ডারমেরি দলের প্রশিক্ষণের আওতায় আনসার সদস্যদের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ৬০ দিনের প্রশিক্ষণে অনুমোদিত ৬৯২ জনের মধ্যে ৬৫৪ জন অংশ নেন, তাঁদের ৬২৭ জন সফলভাবে তা সম্পন্ন করেন।