বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পাসের ২১টি হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে—এর মধ্যে ১১টিতে ছাত্ররা ও ১০টিতে ছাত্রীদের ভোটগ্রহণ হবে। মোট ২২৪ বুথে শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করতে এক হাজার ২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে, যা থেকে নির্বাচন কমিশনের অফিসে সরাসরি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। ক্যাম্পাসে প্রবেশের সব ১২টি গেট আজ সারা দিন বন্ধ থাকবে। কেবল বৈধ শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট কার্ড দেখিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক রাশিদুল আলম বলেন, “শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে আমরা প্রস্তুত। অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।”
তবে ভোটের আগের দিন ক্যাম্পাসে সাবেক ছাত্রদল নেতাদের ঘোরাফেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। হলগুলোতে এখনও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।
‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’-এর জিএস প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন এখনো হলগুলো থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বের করতে পারেনি। আমরা চাই কোনো অবৈধ উপায়ে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা না করা হয়। শিক্ষার্থীরা হলে হলে তার জবাব দেবে।”
কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫ পদের বিপরীতে লড়ছেন মোট ১৭৯ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ১০ জন, জিএস পদে ৯ জন, নারী এজিএস পদে ৬ জন এবং পুরুষ এজিএস পদে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
শিক্ষার্থীদের মতে, ভিপি পদে ত্রিমুখী লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্যানেলের আবদুর রশিদ জিতু, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল এবং শিবির সমর্থিত আরিফুল্লা আবিদের মধ্যে। অন্যদিকে জিএস পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বাগছাস সমর্থিত তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম ও শিবির সমর্থিত মাজহারুল ইসলামের মধ্যে।
শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন, এবারের নির্বাচন নিয়ে তারা দারুণ উৎসাহী। ক্লাস চললেও শিক্ষার্থীদের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কেবল জাকসু নির্বাচন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সোহেল চৌধুরী বলেন, “আমরা চাই নিয়মিত জাকসু নির্বাচন হোক। যে-ই নির্বাচিত হোক, তারা যেন শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করেন, জাকসুকে যেন দলীয় কার্যালয়ে রূপ না দেন।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন রহমান বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের ভূমিধস জয়ের প্রভাব জাকসুতেও পড়তে পারে। তাদের একটি স্থায়ী ভোটব্যাংক আছে, যা ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে।”
আরেক শিক্ষার্থী ইরফাত আমিনের ভাষায়, “আমরা জন্মের পর থেকে এমন নির্বাচনী উৎসব দেখিনি। এবারের নির্বাচন যেন উৎসবের মতোই মনে হচ্ছে।”
সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। এরপর থেকে নানা কারণ দেখিয়ে আর নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবারকার নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, এ নির্বাচন ভবিষ্যতে নিয়মিত জাকসু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে।