বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি মাইক্রোবাস থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কাওসার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারসহ কয়েকজন সজল মোল্লাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর জেরে সজলের ভাই সৌদিপ্রবাসী ইকবাল হোসেন ফেসবুকে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি গত বুধবার সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জের ধরে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদের বিরুদ্ধে ইকবাল ও তাঁর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার খবর পেয়ে সজল ও শামীম একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পশ্চিম সাতলায় কাওসারকে পেয়ে তাঁরা এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাসে করে পালানোর সময় নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা অভিযুক্ত মাত্র; তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।